kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: কারও বাড়ি বিহার, কারও বাড়ি পঞ্জাব, আবার কারও বাড়ি মধ্যপ্রদেশ। এরা সবাই মালবাহী লরির চালক ও খালাসি। লকডাউনের জেরে দেড়মাস পণ্য সমেত গাড়ি নিয়ে রয়েছেন নদিয়ার চাকদা-বনগাঁ রোডে চাকদার সুথরা এলাকায়। নেই খাবার। নেই শোওয়ার জায়গা। অনাহারে গাড়িতেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুনে, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ থেকে গন্ত্যবের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন গুলাব সিং, বলরাজ সিং-সহ অনেকেই। বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে মাল পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর তারা। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর তাঁদের কানে পৌঁছয় মহামারির কথা। কিন্তু নদিয়া আসতেই বুঝতে পারেন মহামারি গ্রাস করে ফেলেছে বিশ্বকে। জানতে পারেন, লকডাউনের কথা। অগত্যা গাড়ি আর সামনের দিকে এগোবে না। পণ্য-সহ লরি নিয়ে থাকতে হবে এখানেই। তখনও বোঝেননি কী পরিস্থিতি হতে চলেছে। এ বিষয়ে লরিচালক রঞ্জিত সিং বলেন, ১৬ এপ্রিল এখানে এসেছি। তখন থেকেই এখানে। বুঝিনি এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হব। প্রায় দেড় মাস এখানে আটকে রয়েছি।

প্রায় ১০০ লরি রয়েছে এখানে। চালক ও খালাসি মিলিয়ে রয়েছেন মোট ৩০ জন। বাকি চালক ও খালাসি গাড়ি এখানে রেখেই চলে গিয়েছেন যে যার দেশে। কিন্তু এই ৩০ জন ফিরতে পারেননি। এ বিষয়ে বীরেন মহাপাত্র বলেন, আমি ঝাড়খণ্ড থেকে মাল নিয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছিলাম। এখানে এসে লকডাউনের বিষয়ে জানতে পারি। ৩০ জন রয়েছি। বাকিরা যে যার বাড়ি চলে গিয়েছেন। অনেকদিন হল। টাকা নেই। খাবার নেই। শোওয়ার জায়গা নেই। গাড়িতেই কাটছে দিন।

সত্যি তাই, এলাকায় গিয়ে দেখা গেল সারি সারি দাঁড়িয়ে লরি। এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন গাড়ির চালক ও খালাসিরা। কেউ আবার লরির তলায়  শুয়ে আছেন। কেউ বা রোদে বসে চিন্তা করছেন কবে ফিরবেন বাড়ি। অনেকে বললেন, দাদা একটু খাবারের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন? এ বিষয়ে সাধু সিং বলেন, তৃণমূল সাংসদ রত্না ঘোষ একবার আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এলাকার একটি ব্যাঙ্কও তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। দু’বার সেই ব্যাঙ্ক থেকে খাবার দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ক’দিন হল আর কেউ আসছে না। অনাহারে রয়েছি। গরমে গাড়িতেই ঘুমাচ্ছি। থাকার জায়গাও নেই। পাশাপাশি বলরাজ সিং, গুলাব সিং অভিযোগ করেন, ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি থেকে মিলছে না কোনও সাহায্য। এমনকী ফোনও তুলছেন না তারা। এদের ভবিষ্যৎ কী তা জানেন না কেউ। কোটি টাকার মাল ছেড়ে পালিয়ে যাননি তাঁরা। লরির চালক, খালাসি হলেও দায়িত্বশীল এঁরা। কিন্তু এঁদের এখন দেখবে কে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ওই লরি চালকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here