kolkata news

মহানগর ডেস্ক: শনিবার চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণের দিন কোচবিহারের মাথাভাঙার শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মারা যান চারজন। হিংসায় ইন্ধন কার – এই নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্রতর হয়েছে বাংলার যুযুধান দুই দলের প্রধান প্রতিপক্ষ নরেন্দ্র মোদি এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মধ্যে। এদিকে গুলি চালানোর ঘটনায় সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রবিবার কালো পোশাক পরে শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে দাবি করেন, ‘শীতলকুচিতে গণহত্যা হয়েছে। আজকের দিনটি আমরা কালা দিবস হিসাবে পালন করব।’

গতকালই উত্তর ২৪ পরগনার সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী জানান যে তিনি রবিবার শীতলকুচিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। কিন্তু শনিবার রাতেই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয় সে জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী ৭২ ঘণ্টা শীতলকুচি সহ কোচবিহারের ৯টা বিধানসভা এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না৷ কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন’ বলে মমতার হুঙ্কার, ‘ওরা আমাকে তিনদিন আটকানোর পরিকল্পনা করেছে৷ কিন্তু এভাবে আমাকে আটকানো সম্ভব নয়৷ নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ৭২ ঘণ্টা পর আমি শীতলকুচি যাবই।’ পাশাপাশি মমতা দাবি করেন যে গুলিচলার তথ্য চাপা দিতেই কমিশন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

গতকালের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন বিকালে বর্ধমানে মোমবাতি মিছিল করার কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের তিনি নির্দেশ দেন যে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দুপুর দুটো থেকে চারটে পর্যন্ত সমস্ত জেলার ব্লকে ব্লকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চিঠি দেওয়ার জন্য। শীতলকুচির ঘটনাকে ‘গণহত্যার’ সঙ্গে তুলনা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলির স্প্রে করেছে। গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে কোমরের নিচে গুলি করা উচিত ছিল। কিন্তু গুলি গলায় অথবা বুকে লেগেছে।’ শীতলকুচির ঘটনার ভয়াবহতা ব্যাখা করে মমতা বলেন, ‘কাল গুলি লাগার একটা ছবি দেখে আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ছবি দেখলেই মনে হচ্ছে যেন আমাকে কেউ গুলি করে হত্যা করছে!’  

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here