মহানগর ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে বেসামাল ভারত। তবে, শুধু ভারত নয় করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলিও চরম ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে। ভেঙে পড়ছে এই সব দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাওস থেকে শুরু করে থাইল্যান্ড পর্যন্ত, অন্যদিকে ভুটান ও নেপালের মতো ভারতের সীমান্তবর্তী দেশ গুলিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সংক্রমণের হার ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী। ভাইরাস ক্রমশই রূপ বদলের কারণে এই সংক্রমণ। তাছাড়াও এই সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণের করার পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে।

গত সপ্তাহে লাওসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়েছিলেন ভিয়েতনাম সহ প্রতিবেশী দেশের কাছে। কারণ এক মাসে সংক্রমণের সংখ্যা ২০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। নেপালের সংক্রমণের কারণে দ্রুত হাসপাতালগুলি ভর্তি হয়ে উঠেছে। অক্সিজেন সরবরাহে দেখা দিয়েছে ঘাটতি। থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ক্রমশই চাপের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপে প্রথমবারের জন্য করোনা ভাইরাসের মুখোমুখি হয়েছে। যদিও ভারতের জনসংখ্যার তুলনায় এই উন্নয়নশীল দেশগুলির জনসংখ্যা অনেক কম। তবে করোনা সংক্রমণে নিয়ন্ত্রণ না আনলে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বৃদ্ধি পাবে।

লন্ডন স্কুল হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মহামারী সংক্রামক অধ্যাপক ডেভিড হেইম্যান বলেছেন, ‘এই ভাইরাস ক্রমশই মহামারী আকার ধারণ করছে। ভবিষ্যতে সমস্ত দেশ সঙ্কটজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে’।গত সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের আঞ্চলিক পরিচালক হানস ক্লুগে বলেছেন, ‘ভারতের মতো পরিস্থিতি যেকোনও সময় যেকোনও দেশেই হতে পারে।’লাওসে গত মাসের তুলনায় সংক্রমণের হার ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তালিকায় নেপাল আর থাইল্যান্ডও রয়েছে। এছাড়াও ভুটান, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, সুরিনাম, কম্বোডিয়া এবং ফিজি ইত্যাদি জায়গায় খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ।

ইতিমধ্যেই লাওসে মাত্রা ছাড়িয়েছে সংক্রমণ। জারি করা হয়েছে লকডাউন। বন্ধ রয়েছে অন্তরাজ্য ভ্রমণ। দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। থাইল্যান্ড নতুন বছরে পুনরায় পর্যটনশিল্প চালু করেছে অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে। কম্বোডিয়া ইতিমধ্যেই সংক্রমণ রুখতে রাজধানী নমপ পেন কে ‘রেড জোন’ অঞ্চল চিহ্নিত করেছে। শ্রীলঙ্কা ভারতের দক্ষিণে একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। গত বছরই রেকর্ড সংখ্যক সংক্রমণ দেখা যেতেই সমস্ত এলাকা গুলিকে একে ওপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা, সিনেমা হল, পাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে সরকার জানিয়েছে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ক্যারিবিয়ান মহাসাগরের ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেতেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে রেস্তোরাঁ, মল এবং সিনেমা হল।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উন্নত দেশগুলির উচিত উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অতিমারি মোকাবিলায় সহায়তা করা। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সরবরাহ করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here