ডেস্ক: হাইকোর্টের রায়ের পর সোমবার নতুন করে মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ছড়াই বীরভূমে এর আগে জয় হাসিল করেছিল শাসকদল তৃণমূল। নতুন করে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফের ব্যাপক অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে বীরভূমে। এমনকি বীরভূমের সিউড়ি ১ নং ব্লকের কড়িধ্যা গ্রামে গুলি ও বোমা হামলায় এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, বিরোধীরা যাতে মনোনয়ন জমা দিতে না পারে, সেই কারণে বাইরে থেকে বাইকবাহিনীর নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিডিও অফিসের সামনে অস্ত্রসহ বাইক নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই দুষ্কৃতীদল। তবে এই সমস্ত কিছু সম্পর্কে সম্পুর্ণ উদাসীন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। শাসক দলের গুন্ডাবাহিনীর অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে অনুব্রতবাবু বলেন, ‘আসলে গ্রামের মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছুরি, কাঁচি, বঁটি, দাঁ, কুড়াল, কাটারি প্রভৃতি ধারালো রাখতে মাঝে মাঝে সান দিতে হয়। কিন্তু গ্রামে তা সান দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। ঠিক সেই কারনেই গ্রামের মানুষজন তাঁদের নিত্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্রে সান দেওয়ার জন্যই অস্ত্র হাতে এখানে এসেছেন। আর এখানকার মানুষজন সবাই তৃণমূলের সমর্থক, তৃণমূলকে ভালবাসেন তাই বিরোধীরা এই সমস্ত অভিযোগ তুলছে। আসলে ওরা কোনও দুষ্কৃতী নয়, ওঁরা গ্রামের সাধারণ মানুষ।’ তবে বাইক নিয়ে শয়ে শয়ে মানুষজন বিডিও অফিস চত্বরে কি করছে? এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গ্রাম থেকে এতদূরে আসতে গেলে তো আর পায়ে হেঁটে আসা যায় না তাই বাইক নিয়ে এসেছে। আর কিছু নয়। আর আমি তো বলেই দিয়েছি, বিরোধীরা কেউ যদি মনোনয়ন দিতে ইচ্ছুক হন তবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেব।’

অন্যদিকে, এদিন পঞ্চায়েত ঘিরে ক্রমাগত হিংসা প্রসঙ্গে বিরোধীদের এক হাত নেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘এটা বিরোধীদেরই চাল। ওরাই নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল বাঁধিয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছে। ওদের নিজেদেরতো কোনও সমর্থক নেই, ওরা চায় পঞ্চায়েত ভোট বানচাল করতে। কিন্তু তা তো করা সম্ভব নয়, তাই নিজেদের মধ্যে এই সব করে চলেছে। ঝাড়খণ্ড থেকে ওরা লোক ঢোকাচ্ছে রাজ্যে। পুলিশকে বলেছি সীমান্ত সিল করে দেওয়ার জন্য।’ এদিকে, এদিন মনোনয়নকে কেন্দ্র করে হিংসার বিরুদ্ধে শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের পরও নিজেদের অশান্তি জারি রেখেছে তৃণমূল। গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে হত্যা করছে ওরা। রাজ্য জুড়ে এই অশান্তির জন্য প্রশাসনকেও ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে বলা হচ্ছে তাঁরা এই অশান্তি থামাতে পারবেন না। তাঁদের কাছে উপর মহলের নির্দেশ রয়েছে। আমাদের কাছে সব প্রমাণ রয়েছে। এবং প্রমাণ সহ আমরা ফের আদালতের দ্বারস্থ হব।

উল্লেখ্য, মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী কর্মী সমর্থকদের মার খাওয়া এবং অশান্তির প্রতিবাদে। আজ সকালে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস। একইসঙ্গে আজ আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপিও। সবমিলিয়ে এই নয়া ঝঞ্ঝাটে আদৌ কতটা সফল হবে রাজ্য পঞ্চায়েত নির্বাচন তা নিয়ে উঠে আসছে বিস্তর প্রশ্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here