মহানগর ওয়েবডেস্ক: সারা শরীরে তীব্র যন্ত্রনা নিয়ে শুক্রবার রাতে মৃত্যু হয়েছে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার। এর ঠিক পরেই সরব হয়ে উঠলেন উন্নাওয়ের মৃত ধর্ষিতার বাবা। সরকার ও প্রশাসনের কাছে তাঁর আবেদন, ‘যারা আমার মেয়েকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে খুন করেছে তাদের হায়দরাবাদের ধর্ষকদের মতো গুলি করে মারা হোক।’

বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষণ মামলার শুনানির জন্য আদালতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা ওই তরুণী। রায়বরেলি থেকে ট্রেন ধরে আদালতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু পথে তাঁকে ধাওয়া করে ৫ দুষ্কৃতী। সেই দলে ছিল ধর্ষণে অভিযুক্ত শিবম ত্রিবেদী এবং শুভম ত্রিবেদী। রেলগেটের কাছে এক নির্জন জায়গায় প্রথমে লাঠি দিয়ে নির্যাতিতার পায়ে সজোরে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। এরপর ছুরি চালানো হয় গলায় সবশেষে গায়ে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় নির্যাতিতাকে। ওই অবস্থাতেই প্রায় ১ কিলোমিটার দৌড়ে এক ব্যক্তির কাছে ফোন চেয়ে পুলিশকে ফোন করে সে। স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ার এয়ারলিফট করে তাঁকে উড়িয়ে আনা হয় দিল্লিতে। শুক্রবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের ‘বার্ন ও প্লাস্টিক’ ডিপার্টমেন্টের প্রধান চিকিত্সক শলভ কুমার জানান, শুক্রবার রাত ১১ টা ১০ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই নির্যাতিতা এরপর ১১টা ৪০ নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর।

এই ঘটনার পরই হায়দরাবাদের ধাঁচে উন্নাওয়ের ধর্ষকদের গুলি করে হত্যা করার দাবি তুলেছেন নেটিজেনরা। সেই সুরে সুর মিলিয়ে এদিন উন্নাওয়ের নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমার একটাই আর্জি আমার মেয়ের সঙ্গে যারা এমনটা করেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়, নাহলে হায়দরাবাদের মতো গুলি করে হত্যা করা হোক ওদের।’ একই দাবি, নির্যাতিতার ভাইয়ের। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘বোন বারবার আমাকে বলছিল আমাকে মরতে দিও না। আমাকে বাঁচিয়ে নাও। যারা আমার সঙ্গে এটা করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেখে যেতে চাই আমি।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘বোন তো আর বেঁচে নেই। তাই ওই পাঁচজন বেঁচে থাকুক সেটাও চাই না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here