মহানগর ওয়েবডেস্ক: মহামারীর কবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে দিন-রাত এক করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন দেশের ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। নিজেদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন জলাঞ্জলি দিয়েই এটা লাগাতার করে যেতে হচ্ছে তাদের। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ভুলে গিয়েছেন শেষ কবে বাড়ি গিয়েছিলেন। স্বার্থ ও আত্মপক্ষ ত্যাগ করেই নিরলসভাবে মানুষের সেবা করে চলেছেন তারা। দিল্লি এইমসের এমনই এক ডাক্তারের কথা এদিন তুলে ধরেছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম ও ত্যাগ যে কোনও মানুষের চোখই ভিজিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

দিল্লির অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটের কোভিড-১৯ চিকিৎসা বিভাগেই ডিউটি পড়েছে ডাঃ অম্বিকার। যেই বয়সে তাঁর অন্যান্য স্বপ্ন পূরণ করার কথা, সেই বয়সে রোগীদের সারিয়ে ওঠার মধ্যেই নিজের আনন্দ খুঁজে নিয়েছেন তিনি। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিজের পরিবারকে দূরে সরিয়ে রেখেই লড়ছেন তিনি। জানেন, নিজের বিপদ হতে পারে যে কোনও সময়ে। এমনকী পরিবারের কেউও আক্রান্ত হতে পারেন। এত ঝুঁকি আছে জেনেও পরিবারের কেউ তাঁকে কখনও এই কাজ থেকে পিছিয়ে আসতে বলেননি। এই কথাগুলি ক্যামেরার সামনে বলতে গিয়েই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ডাঃ অম্বিকা।

তিনি বলেন, ‘যখন পরিবারের সঙ্গে কথা হয় তখনই মনে ভয় কাজ করে। কেননা দু’দিক দিয়েই যে কোনও সময় বিপদ হতে পারে। আপনার দিক থেকেও হতে পারে, ওদের দিক থেকেও হতে পারে। হতে পারে ওরা অসুস্থ হয়ে গেলেন কিন্তু আপনিই ওদের যত্ন নিতে পারলেন না। সেই আফসোস কখনও সহ্য করা যায় না।’ এইটুকু বলেন গলা ভারি হয়ে আসে অম্বিকার। কথা বলতে বলতে তিনি জানান, অনেকদিন হয়ে গিয়েছে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখাও হয়নি। কবে কীভাবে সেটা হবে জানেন তা তিনি।

বাবা-মায়ের উদ্দেশে অম্বিকা বলে ওঠেন, ‘যদি ওরা এই ভিডিয়ো দেখেন আমি ওদের বলতে চাইব, আমরা এমন পরিবার যারা নিজেরাই নিজেদের শক্ত করে রেখেছি। এখনও পর্যন্ত আমার পরিবার কোনও দিন বলেন সব ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসতে। কখনও বলেনি, চলে আয় তোর জীবন সবার আগে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here