ডেস্ক: মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল ময়নাগুড়ির সুভাষনগর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায়ের বিরুদ্ধে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিল রাজ্য শিক্ষা পর্ষদ। উচ্চমাধ্যমিকের প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরানো হল হরিদয়াল রায়কে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমানিত হলে তাঁর শিক্ষারত্ন সম্মানও কেড়ে নেওয়া হবে বলে জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

পরীক্ষা শুরু হয় বেলা ১২ টায়, কিন্তু সকাল ১০টাতেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খুলে তার স্কুলের ফার্স্ট বয়কে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ময়নাগুড়ির সুভাষনগর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায়ের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন পরীক্ষার অফিসার ইনচার্জ বিশ্বনাথ ভৌমিক। শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার উত্তরপত্র লোপাটেরও অভিযোগ এনেছেন স্কুলের পরিদর্শক। যে ঘটনায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। এরই মাঝে অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনেন প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায়।

তাঁর অভিযোগ ছিল তাঁর স্কুলের বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা একশোরও উপর। কিন্তু আশেপাশের বাকি স্কুলগুলির পরীক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা, সেই প্রতিহিংসা থেকেই আশপাশের স্কুলের শিক্ষকরাই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে সামিল হয়েছেন। এবং সেই ষড়যন্ত্রে সামিল রয়েছেন খোদ স্কুল পরিদর্শক। তাঁর দাবি, কটার সময় সময় প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে এবং কটার সময় তা খোলা হয়েছে। তা দেখানোর দাবি জানিয়েছেন ওই স্কুল শিক্ষক। শুধু তাই নয়, তাঁর সেন্টারে নয়, সব সেন্টারেই রেকর্ডিংয়ের ফর্ম নেই। পর্ষদকে জানানোর পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

অন্যদিকে, উত্তরপত্র সরানোর যে অভিযোগ হরিদয়ালের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্কুলের পিছনের গেট থেকে পরীক্ষার খাতা আনা হয়েছিল । সেই সময় ওই শিক্ষকের সঙ্গে ছিলেন চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মীও। তাঁর কথাতেই নথিতে সই করেন ওই শিক্ষক। যদিও পরে দেখা যায় ওই পরীক্ষাকেন্দ্রে খাতা কম এসেছে। এদিকে ওই ব্ল্যাঙ্ক উত্তরপত্র কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্কুল পরিদর্শক বিশ্বনাথ ভৌমিক। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পর্ষদ। সেই সঙ্গে এদিন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল উচ্চমাধ্যমিকের প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here