kolkata bengali news

বিশেষ প্রতিবেদক, জলপাইগুড়ি: মঙ্গলবার গভীর রাতে ডুয়ার্সের মাল ব্লকের সাইলি চা বাগানে আগুনে পুড়ে গেল বাগানের কার্যালয়। মাঝ রাতের ওই আগুনে পুড়ে গিয়েছে বাগানের ম্যাপ, দলিল থেকে শুরু করে গুরুত্বপুর্ন নথি। আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে অফিস ঘরে থাকা সমস্ত মালপত্রও। প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি। এই রকম ভয়ানক অগ্নিকান্ড এর আগে ওই বাগানের বাসিন্দারা আগে দেখেনি বলে দাবি বাগানের স্টাফদের। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাত প্রায় ৩টে নাগাদ বাগানের অফিসের একটি ঘরে হঠাৎই আগুন ধরে যায়। বাগানের নাইট গার্ডদের মারফত খবর পেয়ে বাগানের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় দমকলেও। দমকল কর্মী আর বাগানের শ্রমিকদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে প্রায় ঘন্টাখানেকের চেষ্টায়। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহুর্তের মধ্যে আগুনে ভস্মীভুত হয়ে যায় বাগানের অফিস রুমে থাকা আলমারি এভং আলমারিতে থাকা বাগানের দলিল, ম্যাপ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি। বাগানের বড়বাবু তিলক দাস বলেন, প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নথি। প্রাথমিক ভাবে অনুমান বাগানের কম্পিউটার থেকে আগুন লেগে যায়।

অন্যদিকে তীব্র জলকষ্টে ভুগছে জেলার মেটেলি ব্লকের জুরন্টি ও নাগেশ্বরী চা বাগানের বাগানবাসীদের। দুটি বাগানেই পাম্প, ট্যাঙ্ক থাকলেও তাতে পাওয়া যায় না জল। ঘটনার জেরে ক্ষুদ্ধ চা বাগানের বাসিন্দারা। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের পাম্প ও ট্যাংক থাকলেও ভরসা কুয়োর নোংরা জল। গত এক বছর আগে এলাকায় তৈরি হয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য পাম্প, ট্যাংক। পাইপ পেতে ট্যাপ কল বসানো হলেও জল নেই সেই ট্যাপে। ভরসা তাই কুয়োর নোংরা জল। বাগানের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নালার জলে কাপড়, বাসনপত্র ধোয়ার একমাত্র ভরসা। এক বছর পেরিয়ে গেলেও জল চালু না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীরা। সামান্য জলের জন্য ভোগান্তির শিকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। চা বাগানে জনসাস্থ্য ও কারিগরী দপ্তর থেকে জলের পাম্প হাউস, ট্যাংক তৈরি করা হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। বিভিন্ন শ্রমিক মহল্লায় পাইপ বসিয়ে ট্যাপ কলও বসানো হয়েছে। কিন্তু সেই জল এখনো আসেনি ট্যাপ কলে। কুয়োর নোংরা জল পান করার জন্য এলাকায় জবাহিত রোগ লেগেই থাকে মানুষের।

এই গরমের মরশুমে জল স্তর অনেক নীচে নেমে যাওয়ায় কুয়ো থেকে জল তুলতে সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুত জলপ্রকল্প চালু করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজ হয়েছিল সংলগ্ন ইনগু চা বাগানেও। সেই পিএইচইর জল পাচ্ছে জনগণ। অথচ এই দুই চা বাগানে তা চালু করা হচ্ছে না। এলাকার জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আশ্রিতা লাকরা মুন্ডা বলেন, ‘দুইটি চা বাগানের জল প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত যাতে সেগুলোকে চালু করা হয় তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
বাগানের বাসিন্দা সুম্রি ওঁরাও, অজিত মুন্ডাদের কথায় এই বাগানের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থার জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিনের দাবি মতো ট্যাংক ও পাম্প বসলেও জল মেলেনি। এই মুহুর্তে মানুষকে জলের অভাবে কুয়োর জল খেতে হচ্ছে। নালার নোংরা জলেই কাপড় জামা ধোয়ার পাশাপাশি থালা বাসনও মাঝতে হচ্ছে। এই ভাবে আর কতদিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here