kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বালুরঘাট ও হাওড়া: দক্ষিন দিনাজপুর জেলায় ভোট প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসার আগেই বিজেপির দলীয় ফ্ল্যাগ-ফেস্টুন ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করল জেলার সদর শহর বালুরঘাটে। অভিযোগ মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা বালুরঘাট শহরের কয়েকটি ওয়ার্ডে বিজেপি সহ অনান্য বিরোধী দলের টাঙ্গানো ফ্লেক্স-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেছে। বুধবার সকালে তা জানাজানি হতেই বিষয়টিকে ঘিরে ওই সব ওয়ার্ড গুলিতে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় বিজেপির অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে হলেও তৃণমূলের তরফে সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এর সঙ্গে তৃণমূলের কেউ জড়িত নয়। এটা বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দের জের। যদিও বিজেপির তরফে নির্বাচন দপ্তরের পাশাপাশি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও এই বিষয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে বিষয়টির প্রতি স্থানীয় পুলিশ সদা দৃষ্টি রাখছে বলে বালুরঘাট থানা সুত্রে জানা গেছে।

বিজেপির তরফে অভিযোগ জানিয়ে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বালুরঘাট শহরের ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডগুলিতে বিজেপি সমেত বামফ্রন্টের সমস্ত ফ্লেক্স ও পতাকা কে বা কারা ছিঁড়ে দিয়ে চলে গিয়েছে।

বিজেপির বালুরঘাট টাউন মণ্ডলের জেনারেল সেক্রটারী সৃজিত সহা জানান, ‘তৃনমূল ভয় পেয়েছে। তাই এই সব করে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে শাসক দল। এবার ভোটে হেরে যাওয়ার ভয়ের কারণে তারা নিজেদের ব্যানার পতাকা রেখে বিরোধীদের ফ্ল্যাগ-ফেস্টুন গুলো ছিঁড়ে ফেলছে। এই বিষয় আমরা বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করব এবং নির্বাচন কমিশনকেও জানাবো।’

অন্যদিকে বালুরঘাট টাউন তৃণমূল কমিটির নেতা বাপি রুদ্র তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে পালটা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের দলের পতাকা ফেস্টুনও কয়েক দিন আগে কে বা কারা ছিঁড়ে দিয়েছে। তবে গতকালের ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত নয়। এটা পুরোপুরি বিজেপির দুই গোষ্ঠীর ঝামেলার জের। যা ওরা ভোটের বাজারে হেরে যাওয়ার ভয়ে সিমপ্যাথি আদায়ের জন্য এই অভিযোগ তুলছে। যার কোন সারবত্তাই নেই।’

অন্যদিকে বুধবার হাওড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীর স্ত্রী আক্রান্ত হন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। এদিন ঘটনাটি ঘটে বৃন্দাবন মল্লিক লেনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে হাওড়া থানার পুলিশ। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এদিন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বৃন্দাবন মল্লিক লেনে তারা যখন দলীয় পতাকা লাগাচ্ছিল তখন ওই ওয়ার্ডের দেবু হালদার নামে এক তৃণমূল নেতা তাদের সেই কাজে বাধা দেয়। পাশাপাশি হুমকি দেয় যে ওই ওয়ার্ডে বিজেপি ঢোকালে বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালানো হবে। তাদের আরও অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি চন্দন কান্তি চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বেশ কিছু ছেলে এসে তাদের কর্মীদের বাড়ির মহিলাদের ওপর চড়াও হয়। মারধর করে। এর জেরে এক মহিলা আক্রান্ত হন বলেও তাদের দাবি।

অন্যদিকে, বিজেপির তরফে তোলা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ২৩ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেস এর সভাপতি চন্দন কান্তি চক্রবর্তী জানান, তৃণমূল নয় বরং স্থানীয় বিজেপি কিছু কর্মীর নেতৃত্বে বহিরাগতরা এসে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শান্ত পরিবেশকে বিজেপি অশান্ত করার চেষ্টাও করছে বলে দাবি চন্দনবাবুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here