নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁচোল: গত ২৩ মার্চ মালদা জেলার চাঁচোলের কলমবাগান মাঠে সভা করে গিয়েছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী। তার সভাতে যেমন সেই মাঠ ভিড়ে উপচে পড়েছিল তেমনি রাহুল নিজেও তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণও করেছিলেন। সেই সঙ্গে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করা উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মৌসম বেনজির নুরকেও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে দেগে গিয়েছিলেন। সোমবার সেই মাঠেই পাল্টা সভা করে কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ শানালো তৃণমূল। যার নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রাহুলের কায়দাতেই হেলিকপ্টারে চড়ে কলমবাগান মাঠে সভা করতে আসেন শুভেন্দু। উপস্থিত ছিলেন উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী মৌসম বেনাজির নুর, দলের জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, রাজ্যের দুই প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরি ও সাবিত্রী মিত্র, জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল সহ অনান্যরা। সব থেকে বড় কথা রাহুলের সভায় লোক দেখে চমকে গিয়েছিলেন খোদ কংগ্রেসের নেতারাই। তবে সে লোক শুধু মালদার ছিল না, পার্শ্ববর্তী দুই দিনাজপুর জেলা, বীরভূম মায় মুর্শিদাবাদ থেকেও ছিল। কিন্তু এদিন তৃণমূলের সভায় মালদা জেলার ১৫টি ব্লকের লোকদেরই নিয়ে এসেছিল শাসক দল। দুই সভার ভিড়ের তুল্যমূল্য বিচার করলে দেখা যাবে প্রায় সমান জামায়েত ঘটিয়েছে দুই পক্ষই।

এদিন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে দিল্লি থেকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীকে মালদায় এনেছিলেন কংগ্রেস নেতারা। এরা সকাল বেলা কংগ্রেস করেন আর রাতে বিজেপি। আমাদের একটাই লক্ষ্য কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে সরানো। কিন্তু মালদায় কংগ্রেস নেতারা কি করলেন, রাহুল গান্ধীকে নিয়ে এসে সভা করালেন। এতে কার শক্তি বৃদ্ধি হবে? আসলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে অক্সিজেন দিচ্ছে কংগ্রেস। এই সভাটি মালদা হবিবপুরেও তো করতে পারত কংগ্রেস।’ উল্লেখ্য গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদা জেলার হবিবপুর এলাকায় ব্যাপক শক্তি বৃদ্ধি ঘটিয়েছে বিজেপি। সেখানে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের আসন দখল করেছে বিজেপি। তবে সেই শক্তি বৃদ্ধির কথা এদিন অবশ্য মুখে আনেননি শুভেন্দু অধিকারী।

 

এদিন শুভেন্দু অধিকারি আরও বলেন, ‘কলকাতায় ব্রিগেড সমাবেশে সোনিয়া গান্ধী প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। মোদির বিরুদ্ধে একজোটের বার্তা দিয়েছিলেন। অথচ সেই কংগ্রেস দলের রাহুল গান্ধী মালদার চাঁচোলের কলমবাগানে এসে তৃণমূলকে গালমন্দ করে গিয়েছে। তবে মালদা আর সেই জায়গায় নেই। মালদা জেলা এখন তৃণমূলের শক্ত দুর্গে পরিণত হয়েছে। এখানে যিনি বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন তিনি হার্মাদ দলের বিধায়ক ছিলেন। সেই হার্মাদকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আমি উত্তর মালদার মানুষকে বলব বিজেপি প্রার্থী যখন প্রচারে যাবেন, তখন মহিলারা যেন সামনে না আসেন। মালদায় আমরা দুটি আসনই জিতব। এখানে আমাদের ৪৩ শতাংশ ভোট রয়েছে। কংগ্রেসের রয়েছে ২৩ শতাংশ আর বিজেপির ২০ শতাংশ।’ আগামি ৩ এপ্রিল তৃণমূলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেবেন সে কথা প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের নির্বাচনী জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন তৃণমূল প্রার্থী মৌসম বেনজির নুর। তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্র থেকে আমি পরপর নির্বাচিত হয়ে এসেছি। মানুষ আমাদের দুইবার আশীর্বাদ করেছেন।  এবারও আমাকে উত্তর মালদার মানুষ জয়ী করবেন। আমাকে বলা হয়েছে আমি নাকি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। আমার বিচার কিন্তু মালদার মানুষই করবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here