নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝাড়গ্রাম: যা হবার ছিল সেটাই হল। তাই এটা বড় কোন চমক নয়। এটা যে হতে পারে সেই আঁচটা ভোটের পর পরই বোঝা গিয়েছিল। পদ হারিয়ে তাই দলের অন্দরে যেমন বিদ্রোহের কোন শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি দলের এই সিদ্ধান্ত যে ভুল সেকথাও কারও মুখে শোনা যাচ্ছে না। সোমবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বসেছিল দলের বিশেষ বৈঠক। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ঝাড়গ্রাম জেলার ৬টি ব্লকের দলীয় সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়া হবে। সেই মতো সরিয়ে দেওয়া হল নয়াগ্রাম, বিনপুর-১, বিনপুর-২, জামবনি, সাঁকরাইল ও ঝাড়গ্রাম ব্লকের দলীয় সভাপতিদের। ওই ছয় ব্লকে দলের নতুন সভাপতি হয়েছেন মুলুকচাঁদ হেমব্রম, শ্যামল মাহাতো, বুবাই মাহাতো, নিশীথ মাহাতো, সোমনাথ মহাপাত্র ও রবীন্দ্রনাথ মাহাতো।

সেই সঙ্গে ঝাড়গ্রাম জেলায় দল পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের সভাপতি অজিত মাইতির সঙ্গে এবার জুড়ে দেওয়া হল মানস ভুঁইয়া ও সৌমেন মহাপাত্রকে। উল্লেখ্য, মে মাসে হয়ে যাওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম জেলায় তৃণমূলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলে দেয় বিজেপি। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত যেমন ঘাসফুলের হাতছাড়া হয় তেমনি গোপীবল্লভপুর-১ ব্লক ও সাঁকরাইল ব্লকের দুটি পঞ্চায়েত সমিতিও বিজেপির দখলে চলে যায়। এই ফল ঘিরেই অস্বস্তিতে পড়তে হয় তৃণমূলকে। এখনকার রদবদল সেই ঘটনারই রেশ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এটাও বোঝা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল ঝাড়গ্রাম জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের ড্যামেজ মেরামত করে নিতে চায়। যাতে সেখানে আর না গেরুয়া ঝড় ওঠে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here