kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: লটারিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস। বীরভূম জেলার সদর মহকুমার মহম্মদবাজার ব্লকের রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে শুক্রবার প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া ছিল। সেখানে এদিন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান পদ পেয়ে যাওয়ায় তারা পঞ্চায়েতটি দখল করতে সমর্থ হয়। অন্যদিকে উপপ্রধানও হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তপশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় এবং বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে কেউ তপশিলি জাতি না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল উপপ্রধান পদটি পায়।

জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দল তিনটি করে আসন দখল করে। যদিও এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে সেই কারণে প্রশাসন বেশ কয়েকবার প্রধান নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেও স্থগিত করে দেয়। তৃণমূল ব্লক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছিল তারা বোর্ড গঠন করতে পারলে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবেন। তবে বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস তিনটি করে আসন দখল করলেও ওই পঞ্চায়েত এলাকার দুটি পঞ্চায়েত সমিতির আসন বিজেপি দখল করে। শুক্রবার প্রথমে ভোটাভুটিতে তৃণমূল ও বিজেপি প্রধান পদে তিনটি করে ভোট পায়। এরপর লটারি হলে তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য সরস্বতী হাঁসদা প্রধান নির্বাচিত হন। তিনি রামপুর সংসদের মুর্গাবুনি থেকে নির্বাচিত সদস্য। অন্যদিকে একই সংসদের তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য সুধাময় দাস উপপ্রধান পদে নির্বাচিত হন।

এদিন এই প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় টানটান উত্তেজনা ছিল। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় মোতায়েন ছিল। পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পর্ব থেকেই মহম্মদবাজার এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল। বেশ কয়েকবার ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের নোটিশ দেওয়া হলেও এলাকার নিরাপত্তার কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই পক্ষই এদিন প্রচুর পরিমাণে কর্মী সমর্থক জমায়েত করে রেখেছিল। তবে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় এদিন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

এদিন মহম্মদবাজার মন্ডল বিজেপির সভাপতি দীনবন্ধু কর্মকার বলেন, ‘প্রশাসন দীর্ঘদিন টালবাহানা করে পঞ্চায়েত গঠন বন্ধ রেখেছিল শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে। তিনজনের মধ্যে ২জন বিজেপির সদস্যকে তারা ভাঙিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিল। যদিও তারা একদিনের মাথায় ভুল বুঝতে পেরে বিজেপিতে ফিরে আসে। যাই হোক আমরা লটারিতে প্রধান পথ দখল করতে পারিনি কিন্তু পঞ্চায়েতের যে সমস্ত স্থায়ী সমিতি আছে সব গুলোই আমাদের দখলে থাকবে। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমাদের সদস্যরা কাজ করে যাবে। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের ওই পঞ্চায়েত এলাকার ছটি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে আমরা বিপুল ভোটে লিড পেয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে।’ মহম্মদবাজার ব্লক তৃণমূল সভাপতি তাপস সিনহা বলেন, ‘এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হতে পারে সে আশঙ্কায় এতদিন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া হয়নি। এদিন সেই পঞ্চায়েত আমরা দখল করেছি। দলমত নির্বিশেষে এলাকার সমস্ত মানুষের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত কাজ করবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here