মহানগর ওয়েবডেস্ক: ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গেও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি লাগু করবে বিজেপি। শনিবার অসমে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর ফের একবার হুমকির সুরে জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু এ রাজ্যে এনআরসি কোনও ভাবেই লাগু করার পক্ষপাতী নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবারই তীব্র সুরে তিনি এই নিয়ে বিরোধিতা জানিয়ে এসেছেন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পাশে পেয়েছেন বিরোধীদেরও। বাম ও কংগ্রেস দু’পক্ষই এনআরসি লাগু করতে চায় না পশ্চিমবঙ্গে। ফলে রাজ্যে যাতে এনআরসি না লাগু করা যায় সেই ব্যবস্থা নিতে এবার বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করতে চলেছে তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস।

অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই হয়নি ১৯ লক্ষ অসমবাসীর। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীও এর বিরোধিতা জানিয়েছেন। একই সুর বামেদের মুখেও। অন্যদিকে বিজেপি অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি লাগু করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নির্বাচনি প্রচারে এসে অমিত শাহও একাধিকবার এনআরসি লাগু করে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ তাড়ানোর হুমকি দিয়েছিলেন। দিলীপ ঘোষ আবার দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গেই নাকি সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশ ঘটেছে। পাল্টা তৃণমূল নেত্রীও আবার জানিয়ে দিয়েছেন, একজনকেও রাজ্য ছাড়া করবেন না। এই তরজার মধ্যেই বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর।

সূত্রের খবর, বাংলায় যাতে এনআরসি না হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিধানসভায় সর্বদলীয় একটি প্রস্তাব পেশ হতে চলেছে। প্রত্যাশিতভাবেই বিজেপি এই প্রস্তাবের সমর্থন করছে না। তবে এই প্রস্তাবে তৃণমূলের পাশাপাশি বাম ও কংগ্রেসের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিধানসভায় এই প্রস্তাব পাশ হয়ে গেলে তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এই প্রস্তাব পেশ হওয়ার আগে এনআরসির বিপক্ষে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিধানসভায়। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here