নিজস্ব প্রতিবেদক, রানাঘাট: দলকে কালিমামুক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাটমানি সহ বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে নেতা, মন্ত্রী, প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ধমকও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও ফের কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, কাটমানি না দেওয়ার অপরাধে এক দম্পতিকে মারধর করার অভিযোগও উঠেছে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার রানাঘাটে।

জানা গিয়েছে, নদিয়ার রানাঘাট পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শঙ্কু অধিকারী ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিত্ দাস। বিশ্বজিতবাবুর অভিযোগ, ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি জমি কেনায় তার কাটমানি হিসাবে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন কাউন্সিলর শঙ্কু অধিকারী। শুধু তাই নয়, কাটমানির টাকা না পাওয়ায় ওই কাউন্সিলর ও তাঁর দলবল জমিতে কাজ করতে বাধা দেয় এবং তাঁদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ বিশ্বজিতবাবুর। ঘটনাটি অবশ্য বিশ্বজিতবাবু মুখ বুজে মেনে নেননি। রানাঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিশ্বজিতবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি জমি কেনেন। জমিটির ওপর মন্দির গড়ার পরিকল্পনা ছিল বিশ্বজিতবাবু ও তাঁর স্ত্রী মান্তুর। কিন্তু মন্দির তৈরি দূর অস্ত, জমিটি কেনার পরই স্থানীয় কাউন্সিলরকে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা কাটমানি দেওয়ার নির্দেশ আসে। বিশ্বজিতবাবু সেই নির্দেশ না মানায় একের পর এক হুমকি আসে তাঁদের কাছে। কিন্তু হুমকিতে ভয় না পেয়ে বিশ্বজিতবাবু ও তাঁর স্ত্রী জানিয়ে দেন, ১ লক্ষ দূর অস্ত, এক টাকাও কাটমানি দেবেন না তাঁরা। এরপর এদিন সকালে সস্ত্রীক বিশ্বজিতবাবু রাজমিস্ত্রী ডেকে জমিটির সীমানা দিতে যান। তখন কাউন্সিলর শঙ্কু অধিকারী ও তাঁর দলবলও সেখানে যান এবং জমির সীমানা দেওয়ার কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে সমস্যাটির মীমাংসার জন্য স্থানীয় ক্লাব সদস্যদের ডাকতে যান বিশ্বজিতবাবু। তখন কাউন্সিলর শঙ্কু অধিকারী ও তাঁর দলবল ক্লাব ঘরের ভিতর ঢুকে সকলের সামনে তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন বলে অভিযোগ। ছাড় পাননি মান্তুদেবীও। কাউন্সিলরের দলবল তাঁকেও মারধর করে বলে অভিযোগ। এরপর আক্রান্ত ওই দম্পতি চিকিৎসার জন্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা করিয়ে তাঁরা সোজা রানাঘাট থানায় যান এবং তৃণমূল কাউন্সিলর শঙ্কু অধিকারী সহ তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে কাউকে মারধর করতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বজিতবাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here