নিজস্ব প্রতিবেদক, ইংরেজবাজার: পালাবদলের ইঙ্গিত এবার মালদা জেলার সদর শহর ইংরেজবাজার পুরসভা এলাকায়। সেখানকার ক্ষমতাসীন বোর্ডের সদস্যরাই এবার চেয়ারম্যানকে সরাতে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করলেন। যার জেরে চাঞ্চল্য ছড়ালো জেলার রাজনৈতিক মহলে। চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনে জেলার দুটি আসনেই বাজিমাত করেছে বিজেপি। কারও সঙ্গে জোট না গড়েই তারা দুটি কেন্দ্রেই জয়ের মুখ দেখেছে। এখন সদর শহরের পুরবোর্ডে পালাবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাওয়ায় অনেকেই মনে করছেন গোটা ঘটনার পিছনে বিজেপি যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোন বিবৃতি দেওয়া হয়নি ঘটনানি নিয়ে।

বুধবার ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলালচন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে ১৫জন তৃণমূল কাউন্সিলর বর্তমান পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব চেয়ারম্যানেরই সচিবের ঘরে জমা দেন। রাজ্যের পুরআইন অনুযায়ী পুরসভার এক তৃতীয়াংশের সদস্যদের সমর্থন থাকলেই চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা যায়। তাই ইংরেজবাজারের ক্ষেত্রে ১০জন কাউন্সিলরের সমর্থন থাকলেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা সম্ভব। সেখানে ১৫জন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করায় বোঝা যাচ্ছে বেশ আঁটঘাট বেঁধেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। নিয়মমতো আগামি ৭দিনের মধ্যে এই প্রস্তাবের জেরে তলবি সভা ডাকতে হবে পুরপ্রধানকে। তা না ডাকা হলে ভাইস চেয়ারম্যানই ১৪ দিনের মাথায় তলবি সভা ডাকবেন। ঘটনাচক্রে এই মুহুর্তে নীহারবাবু যেমন শহরের বাইরে রয়েছে তেমনি তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করাতে গেলে যে সংখ্যক কাউন্সিলরের প্রয়োজন তা প্রস্তাবকদের কাছে রয়েছে। দেখার বিষয় পুরপ্রধান হিসাবে নীহারবাবু আগামী ৭দিনের মধ্যে কি করেন। ইংরেজবাজার পুরসভায় ২৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে একটি ওয়ার্ডে কোন জনপ্রতিনিধি বা কাউন্সিলর নেই। আসনটি শূন্য রয়েছে। বাকি ২৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূলের প্রতিনিধি রয়েছেন ২৪জন, বিজেপির ২জন এবং বামেদের ২জন কাউন্সিলর রয়েছেন। ১৫জন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর সন্মতি দিলেই তা পাশ হয়ে যাবে। অর্থাৎ নীহারবাবুর চেয়ারম্যান থাকার সম্ভাবনা এখন খুবই কম, যদি না দলের তরফে অনাস্থা প্রস্তাব ঠেকানোর কোন ব্যবস্থা করা হয়।

kolkata bengali news, EnglishBazar.

এখন প্রশ্ন ঠিক কি কারনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে? অনাস্থা প্রস্তাব যারা এনেছেন তাদের মধ্যে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলরের দাবি, নীহারবাবু ২০১৫ সালে পুরসভার কাউন্সিলর হয়েছিলেন বাম-কংগ্রেসের সমর্থন নিয়েই ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। ২০১৬ সালে সেই বাম-কংগ্রেসের সমর্থনেই তিনি ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে পরাস্ত করে বিধায়কও হন। তার পরের বছরই নীহার তৃণমূলে যোগদান করেন। সেই সময় পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন কৃষ্ণেন্দুবাবু। কিন্তু তাকে ঘিরে পুরপ্রশাসনে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তৃণমূলের তরফে কৃষ্ণেন্দুবাবুকে ইস্তফা দিতে বলা হয়। এরপরই পুরপ্রধান হন নীহারবাবু। কিন্তু তৃণমূলের কাউন্সিলরদের অভিযোগ, তৃণমূলে যোগদান করে নীহারবাবু পুরসভার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের কাউন্সিলরদের কোন কথা শুনছেন না। সেই কারনেই এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। অন্যদিকে জেলা তৃণমূল সুত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিজেপির তরফে দাবি করা হয় যে তারা ইংরেজবাজার পুরসভা দখল করবে। বেশ কিছু সুত্রে দলের জেলা নেতৃত্ব জানতে পারে নীহারবাবু বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাই দলের নির্দেশেই এদিন ১৫জন কাউন্সিলর নীহারবাবুর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here