মিলছে না সুখের ঘর, মুকুলকে দূরে ঠেলে ফের তৃণমূলে ফেরার ইঙ্গিত শোভন-বৈশাখীর

0
2136

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ঘর খুঁজছেন তারা, কিন্তু পাচ্ছেন কই? যে তৃণমূলের উপর একরাশ বিতৃষ্ণা নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শোভন-বৈশাখী। সেই বিজেপির বেশীরভাগ নেতার শিষ্টাচার নেই বলে একদম চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এর পাশাপাশি আরও একটি মন্তব্য তিনি করেছেন যা নিয়ে ফের শুরু হয়েছে জল্পনা। বৈশাখীর দাবি, তাঁর পুরানো দলে আর কিছু থাক বা না থাক শিষ্টাচারটুকু ছিল। সমস্যা হলে দু’পক্ষের মাথায় হাত রেখে তিনি সব সমস্যা মিটিয়ে দিতেন। বলার অপেক্ষা রাখে না নাম না নিলেও বৈশাখীর এই উক্তি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে।

সাড়ম্বরে গত ১৪ আগস্ট দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেও, গেরুয়া শান্তিতে নেই শোভন বৈশাখী। প্রথমে দেবশ্রীর বিজেপি যোগের জল্পনা ও সবশেষে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দলের মধ্যে নানান রকম রসালো আলোচনা, এইসবের জেরে তিতিবিরক্ত বন্ধু ও বান্ধবী একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন দলের শীর্ষ মহলে। তাতে অবশ্য সমাধান বিশেষ কিছু হয়নি। এই সবকিছুর মাঝেই ছাই চাপা আগুনে ঘি টা ঢেলে বসেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। একসভায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘শোভন বৈশাখীর সম্পর্ক বন্ধুত্বের নয়, পরকীয়ার।’ পাশাপাশি যে দেবশ্রী রায়কে নিয়ে এত সমস্যা তাঁকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দেবশ্রীকে দলে নেওয়া উচিত তাতে যদি শোভন বৈশাখী দল ছেড়ে চলে যান তবে যাক তাদের নিয়ে এত মাতামাতির কোনও কারণ নেই।’ জয়ের এহেন মন্তব্যেই ব্যাপক চটে ওঠেন শহরের প্রাক্তন মহানাগরিক ও তাঁর বান্ধবী। দু’জনেরই স্পষ্ট বক্তব্য, বিজেপিতে প্রচুর অশিষ্ট লোক রয়েছে। এত শিষ্টাটারের অভাব পুরনো দলে ছিল না। জয়কে নিশানায় নিয়ে তিনি বলেন এত নিম্নরুচির লোক আগে দেখিনি। জয়কে দেখে করুণা হচ্ছিল। শোভন চট্টোপাধ্যায় তো এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন, বানরের হাতে তলোয়ার পড়লে যা হয়, সেটাই করে দেখাচ্ছেন জয়।

এর পাশাপাশি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘একটা দলে যে এত অশিষ্ট লোক আছে তা জানা ছিল না। বড় ভুল হয়ে গিয়েছে।’ পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিলেও তাঁকে উদ্দেশ্য করে একরাশ প্রশংসা করতেও ভোলেননি বৈশাখী। তার কথায়, ‘আমরা তো ভেবেছিলাম, এবার ওরা (তৃণমূল) আমাদের নামে কুৎসা করবে। বরং দেখেছি, তাঁরা অনেক শিষ্টাচার দেখিয়েছেন। আর কিছু না হোক আগে যে দলে ছিলাম সেখানে কোনও রকম মনোমালিন্য বা কাদা ছোড়াছুড়ি হলে একজন ছিলেন, যিনি দুইপক্ষের মাথায় হাতটি রেখে সমস্যার সমাধান করে দিতেন।’ বিজেপিতে যোগ দেওয়া যে তাঁর কাছে একটা বিরাট ভুল, সেই ভুল স্বীকার করেই তিনি বলেন, ‘ওয়ার্নিং ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছি। ফাইনাই বেলটা দেওয়া বাকি সময় মতো সেটাও দেয়ে দেব।’ এবার হয়ত মুকুল এলেও আর বিজেপিতে থাকতে রাজি হবেন না তাঁরা। তবে বিজেপি ছাড়লে তিনি যে ফের তৃণমূলের দিকেই উঁকিঝুঁকি দেবেন তেমনই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here