তৃণমূল নেতার দলবদলের জেরে উত্তপ্ত চাঁপাডাঙা! আগুনে পুড়ল ঘাসফুলের কার্যালয়

0
128
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, আরামবাগ: প্রথমে মণিরুল, তারপর নিশিথ অনুগামীরা এবং এরপরই মহারাজ নাগ। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করা নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ চড়ছে গেরুয়া শিবিরে। মণিরুলের ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য স্তরের নেতারা। কিন্তু কোথাও কোন বিক্ষোভ হয়নি। সেই বিক্ষোভই কিন্তু হতে দেখা গেল কোচবিহারের বিজেপির জেলা কার্যালয়ে। সেই বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসে সাংসদ হওয়া নিশীথ প্রামাণিকের অনুগামীদের বিজেপিতে যোগদান করাকে ঘিরে। আর এবার তো পুরো লাঠালাঠি হওয়ার উপক্রম হল হুগলি জেলার তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙায়। সেখানে এক বিতর্কিত তৃণমূল নেতার বিজেপিতে যোগদান ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

তারকেশ্বরের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিতর্কিত নেতা মহারাজ নাগকে ঘিরে আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল বিজেপিতে। গত লোকসভা নির্বাচনে সংবাদমাধ্যমের ক‍্যামেরার সামনেই ভোটারদের প্রভাবিত করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। যার জেরে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের ওই বুথে পুনরায় নির্বাচনের নির্দেশ দেয় কমিশন। সেই মহারাজ মুকুল রায়ের হাত ধরে সম্প্রতি যোগদান করেছেন বিজেপিতে। কিন্তু তার এই জার্সি বদল আর গেরুয়া শিবিরে চলে আসা ভাল চোখে দেখতে পারেননি বিজেপির স্থানীয় নেতারা। মঙ্গলবার রাতে বিজেপির কিছু কর্মীসমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে মহারাজ নাগের বাড়িতে হামলা চালানোর।

সেই সময় ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে থাকা একটি বাইকও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপরেই এলাকার একটি তৃণমূলের কার্যালয়ে পাল্টা হামলা চালায় আরেক দল লোক। মনে করা হচ্ছে তারা মহারাজ নাগের অনুগামী। তারা তৃণমূলের কার্যালয়টিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দমকলের দুটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তৃণমূলের কার্যালয়ে হামলা চালাবার সময় বেশ সেখানে থাকা বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী জখম হয়। তাদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

সেই ঘটনার পরই সরব হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকেন তৃণমূল ও বিজেপির নেতারা। মহারাজ নাগ জানিয়েছে, ‘কিছু তৃণমূল নেতা বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। একটা বাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।’ যদিও তৃণমূল নেতা স্বপন সামন্ত জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কেউ যুক্ত নয়। মহারাজ নাগের বিজেপিতে যোগদান স্থানীয় নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেনি। তাই স্থানীয় বিজেপি নেতারা ওর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে আর তারাই স্থানীয় একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে।’ ‌অন্যদিকে বিজেপির আরামবাগ জেলা সাধারন সম্পাদক গনেশ চক্রবর্তী জানান, ‘মহারাজ নাগের বিজেপিতে যোগদান সাধারন মানুষ মেনে নেয় নি। তাই সাধারন মানুষ এর প্রতিবাদ করেছে। সঙ্গে তৃণমূলের একটা বিক্ষুব্দ গোষ্ঠী যুক্ত হয়ে মহারজের বাড়িতে হামলা চালায় আর পরে তারাই তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙচুর করে। দল যেহেতু তাকে যোগদান করিয়েছে তাই আমরা মানতে বাধ‍্য। কিন্তু সাধারন মানুষের ক্ষোভের কথাও আমরা শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাব। বলব এই ধরনের লোককে দলে নিলে অসুবিধা আছে।’

kolkata bengali news

মঙ্গলবার রাতের ওঈ ঘটনার জেরে বুধবার এলাকায় যান রাজ্যের মন্ত্রী লক্ষীরতন শুক্লা, তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার, তৃণমূল নেতা দিলীপ যাদব সহ একাধিক নেতা। এদিন তারা পুড়ে যাওয়া ওই পার্টি অফিস পরিদর্শন করেন ও অভিযোগ তোলেন যে পার্টি অফিসে থাকা দলীয় পতাকা এবং দেশের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দিয়েছে বিজেপির কর্মীরা। এমনকি তারা অভিযোগ তোলেন বিজেপি কর্মীরা দেশকে ভালবাসেন না বলেই জাতীয় পতাকার এই অবমাননা ঘটিয়েছে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা গনেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা তৃনমুলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে বিজেপি কোনভাবেই যুক্ত নয়। তবে মহারজের বিরুদ্ধে এলাকায় সাধারন মানুষের ক্ষোভ আছে। সেটা দলের উপর মহলে জানানো হবে। আমরা আশা করি তার অবস্থা মনিরুলের মতোই হবে।’ জানা গিয়েছে দলের কার্যালয়ে হামলা চালাবার অভিযোগে তৃণমূলের তরফে পুলিশের কাছে মঙ্গলবার রাতেই অভিযোগ জানানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ছয়জনকে গ্ৰেপ্তার করেছে তারকেশ্বর থানার পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here