স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে পেটালেন তৃণমূল নেতা! ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের পথ অবরোধের জেরে গ্রেফতার অভিযুক্ত

0
110
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, আরামবাগ: স্কুলের এক ছাত্র মারধোর করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে ২৬ নং রাজ‍্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল ওই স্কুলেরই ছাত্রছাত্রীরা। পড়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্ৰেপ্তার করায় অবরোধ তুলে নেয় স্কুল পড়ুয়ারা। হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার পুরশুড়া থানার সোদপুর এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার ব‍্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে ধৃত ব‍্যক্তির নাম আলাউদ্দিন মিদ্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সোদপুর হাই স্কুলে নবম শ্রেনীর ছাত্র ঋজু মালিক স্কুলের চত্বরেই দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা অভিযুক্ত আলাউদ্দিন ওই ছাত্রকে আচমকাই মারধর করে। স্কুলের সামনে স্কুলেরই ছাত্রকে মারধর করায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার শাস্তির দাবিতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বুধবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হয়। প্রথমে স্কুল শুরুর আগেই স্কুল ঘেরাও করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলে তালা ঝুলিয়ে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের না ঢুকতে দিয়ে হাতে পোষ্টার নিয়ে বিক্ষোভে শুরু করে তারা। এই ঘটনার জেরে এলাকায় স্কুল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই তারা আরামবাগ কলকাতা ২৬ নং রাজ্য সড়কে অবরোধে বসে পড়ে। এতে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাপক বিশৃংখলারও সৃষ্টি হয়। পরিস্থতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন পুরশুড়া থানার ওসি, আরামবাগের এসডিপিও সহ বিশাল পুলিশবাহিনী। নামানো হয়েছে র‍্যাফও। ছাত্রছাত্রীরা এসডিপিওকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের দাবি, ‘কেন স্কুল চলাকালীন ওই তৃণমূল নেতা ছাত্রদের মারধোর করবে। অবিলম্বে এর প্রতিকার চাই।’ এমনকি এদিন বৃষ্টির মধ্যেও নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে রাস্তা অবরোধ চালিয়ে যায় পড়ুয়ারা। প্রায় ঘন্টা তিনেক অবরোধ চলার পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় শেখ আলাউদ্দিন নামে ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আক্রান্ত ছাত্র ঋজু মালিকের দাবি, ‘বিনা দোষে মেরেছে ওই নেতা। ওনার শাস্তি চাই। স্কুল থেকে বেড়িয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম সোমবার। হটাৎ ওই তৃণমূল নেতা এসে আমাকে বলে আমি নাকি মেয়েদের কুটুক্তি করেছি। তার পরই চড় মারতে শুরু করে। স্কুলের স্যারেদের সামনেই মারতে থাকে। স্যারেরা কিছুই বলেনি।’ যদিও স্কুলের অ্যাসিস্টেন্ট হেড মাস্টার অশোক কুমার বাগ জানান, ‘গত সোমবার স্কুলে সাইকেল দেওয়া হচ্ছিল। ওই ছাত্রটি সাইকেল নিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরে স্কুলের সামনে বাজারে বিনা ইউনিফর্মে ঘোরাঘুরি করছিল। স্কুলের বাইরে কিছু একটা হয়েছিল এবং ওই ছাত্রকে মারধোর করা হয়েছে।’

kolkata bengali news

ঘটনার জেরে জেলা তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদব বলেছেন, ‘স্কুলের মধ‍্যে যা কিছু হয় সেটা স্কুলের দায়িত্ব। তবে ঘটনাটা থানা অবধি গেছে। পুলিশ দেখছে বিষয়টা। পুলিশ তার মতো ব‍্যবস্থা নেবে। দল দলীয়ভাবে বিষয়টা খতিয়ে দেখে ব‍্যবস্থা নেবে।’ যদিও স্থানীয় মানুষজনের ক্ষোভ ওই তৃণমূল নেতা ও ঘটনার সময়ে সামনে দাঁড়িয়ে দেখা স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, কেউ কোন অন্যায় করলে তা স্কুলে জানানো যেতে পারত। ওই ছাত্রের পরিবারের কাছে অচিযোগ জানানো যেত। তা না করে ওই তৃণমূল মেতা কেন নিজের হাতে আইন তুলে নিলেন? তাদের আরও অভিযোগ, স্কুলেরই এক ছাত্রকে স্কুলের সামনে নিজেদের চোখের সামনে মার খেতে দেখেও কেন প্রতিবাদ করেননি? তারা তো ওই তৃণমূল নেতাকে থামাতে পারতেন! অথচ তা না করে নিজেরা দর্শক হয়ে থেকে গেলেন। এ কোন ধরনের নৈতিকতা? যদিও স্কুলের কোন শিক্ষককেই এদিন এই ঘটনার জেরে মুখ খুলতে দেখা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here