রাজ্যে বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গড়বে তৃণমূল কংগ্রেস, কোচবিহারে জানালেন সুব্রত বক্সি

0
86

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার: ২১-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গড়বে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভায় এমনটাই জানালেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। আগামী মাস থেকেই ওই কমিটি গঠনের কাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিধানসভার অধিবেশন শেষ হতেই সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সমগ্র রাজ্যে বিধানসভা ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা হবে। তবে কমিটি গঠনের আগে পর্যন্ত যেভাবে কোর কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম করা হচ্ছে, তা চলবে।’ মূলত দলকে চাঙা করতেই যে তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিশেষ কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ওই কমিটি কাদের নিয়ে গঠিত হবে, কমিটির কাজ কী হবে তা এদিন স্পষ্ট করেননি তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি।

দলীয় সূত্রে খবর, প্রত্যেক বিধানসভায় ৪ জনকে দায়িত্বে রেখে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। তবে সেই কমিটি বিধায়কদের নাকি জেলা সভাপতির নেতৃত্বাধীন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভেঙে দেওয়া ব্লক কমিটিগুলি নতুন করে তৈরি করা হবে কিনা, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গঠনের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের দলীয় সংগঠন যেমন ছিল, তেমনই সক্রিয় থাকবে বলে সুব্রত বক্সি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, ‘দিদিকে বলো’ এবং ‘জনসংযোগ যাত্রা’-র মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং সকলকে নিয়ে চলার ব্যাপারে দলের সমস্ত নেতাদের নির্দেশও দেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের ভুল-ত্রুটি দূরে সরিয়ে নতুন করে জনগণের মধ্যে বিশ্বাস সঞ্চারের বার্তা দিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে আমদের কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে। যে কারণে আমরা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। তবে এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। মানুষ আমদের সঙ্গে আছে। ‘দিদিকে বলো’ এবং ‘জনসংযোগ যাত্রা’-র মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছতে হবে।’

দলকে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকেও একহাত নেন সুব্রত বক্সি। সিবিআই, ইডি-কে দিয়ে ভয় দেখিয়েই বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কিছু গোয়েন্দা সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি বিভিন্নভাবে ভীতি পরিদর্শন করে ক্ষমতায় এসেছে। এ রাজ্যেও সেটাই করতে চাইছে।’ এপ্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকেও একহাত নেন তিনি। বলেন, ‘কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা একটি দল শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে গেল গেল রব তুলে দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যম মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।’ জনগণকে ভুল বোঝা থেকে আটকাতে গেলে দলের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং নেতা-মন্ত্রীদেরও মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনতে হবে বলেও জানিয়েছেন তৃণমূলের এই প্রবীণ নেতা।

উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র তো বটেই সংলগ্ন জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে পরাজিত হতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের। পরাজয়ের জেরে সাংগঠনিক ভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই দলকে চাঙা করতেই এদিন কোচবিহার শহরের নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জেলা নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করে বিশেষ বার্তা দেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি। এই বৈঠকে কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কার্যকারী সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়, বিধায়ক উদয়ন গুহ, জগদীশ বসুনিয়া, হিতেন বর্মন, মিহির গোস্বামী, ফজলে করিম মিয়াঁ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here