তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দলেরই একাংশের, আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি

0
311
kolkata bengali news, district news

নিজস্ব প্রতিবেদক, রায়গঞ্জ: কাটমানির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিকার পর তৃণমূল নেতা, পঞ্চায়েত প্রধানদের কম খেসারত দিতে হয়নি৷ এবার তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হল দলেরই একাংশ৷ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর-১ নম্বর ব্লকের ধরমপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে৷ তৃণমূল সদস্যরা কেবল দলীয় পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেই থেমে থাকেননি, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করেছেন এবং আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷ এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যও ছড়িয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দলকে মজবুত করতে উদ্যোগী হয়েছেন, তখন দলের অন্দরের এই কোন্দলে বিপাকে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল পরিচালিত ধরমপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ তসলিম উদ্দিন এবং উপপ্রধানের বিরুদ্ধে সরকারের বরাদ্দ লক্ষ-লক্ষ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে সরব হয়েছেন প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি নূর আলম সহ দলেরই একাংশ৷ তাদের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নের জন্য লক্ষ-লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও কোনও খাতে তা খরচ না করে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে৷ এর প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নূর আলম সহ এলাকার প্রবীণ তৃণমূল নেতারা৷ নূর আলমের কথায়, ‘এলাকায় কোনও উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে না৷ কোনও কাজ হচ্ছে না৷ এমনকি মহাত্মা গান্ধী জাতীয় কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পে লক্ষ-লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও কোনও রাস্তার কাজ বা মাটি ফেলার কোনও কাজ হয়নি৷ এব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি৷ বরং পঞ্চায়েতের তরফে পাল্টা হুঁশিয়ারি এসেছে৷’

পঞ্চায়েতের এই দুর্নীতি রুখতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য জানার আইনের আবেদন জানিয়েছেন নূর আলম, আজাদ হোসেন, আশিক আলম সহ ধরমপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতৃবৃন্দ৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও জবাব মেলেনি৷ তাই এবার তাঁরা লাগাতার আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যদিও নূর আলমদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধরমপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ তসলিম উদ্দিন৷ তাঁর পাল্টা দাবি, ‘দুর্নীতির অভিযোগ একেবারেই ঠিক নয়৷ আমরা পরিষেবা দিতেই বসেছি৷ ধমক দিতে বসিনি৷ আর তথ্য জানার অধিকার আইনে যদি আবেদন করেই থাকে, যাঁর কাছে আবেদন করেছিল, তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন৷ তাই বিষয়টি জানার পর এব্যাপারে কিছু বলা যাবে৷’ যদিও পঞ্চায়েত প্রধানের এই বক্তব্য মেনে নিতে নারাজ অভিযোগকারীরা৷ সবমিলিয়ে, এলাকায় চাপা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here