সৌজন্যের রাজনীতি ভাঙড়ে, অসুস্থ বাম বিধায়কের সাক্ষাতে তৃণমূলের নেতারা

0
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারুইপুর: ভাঙড়ের চার বারের বাম বিধায়ক বাদল জমাদার। যদিও তার দল এখন তার কোন খোঁজই রাখে না। ৩৪ বছর ধরে রাজত্বপাট চালিয়ে যাওয়া দলটি এখন ঠিক কতটা তার শিকড় জনমানস থেকে হারিয়ে ফেলেছে তার বোধহয় বেশ ভাল উদাহরণ হতে পারে বাদলবাবুর এই ঘটনাই। বেশ কয়েক বছর ধরেই গুরুতর অসুস্থ প্রাক্তন এই বাম বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক। গত চার মাস ধরে তিনি শয্যাশায়ী, কার্যত মৃত্যুশয্যায়। দলীয় নেতাকর্মীরা সেভাবে তার খোঁজখবর রাখছেন না বলে তার পরিবারের অভিযোগ। পয়সার জন্য তিনি ঠিকমতন চিকিৎসাও করতে পারছেন না। এই খবর জানতে পেরে মঙ্গলবার তার বাড়িতে যান ভাঙড়ের দুই তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম এবং কাইজার আহমেদ। তবে দুই জনে এক সঙ্গে যাননি। আলাদা আলাদা করে গিয়েছেন।

আরাবুল ফল মিষ্টি নিয়ে দেখতে যান। আরাবুলকে চিনতেও পারেন বাদলবাবু। আরাবুল তাকে দেখতে এসেছেন এই উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ধরা পড়ে তার চোখে মুখে। চোখ ছলছল করে ওঠে বাদল স্যারের। আরাবুল বলেন, ‘অন্য অনেকের মতন বাদলস্যার আমারও মাষ্টার মশাই। আমি পোলেরহাট হাইস্কুলে ওনার কাছে পড়েছি। স্যার অসুস্থ সেটা শুনেই দেখতে এলাম। পয়সার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। আমি মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে পিজি হসপিটালে ভালো বেড আর ভালো চিকিৎসার ব্যাবস্থা করব। আমি ওনার পাশে আছি।’

kolkata bengali news

এর পাশাপাশি ভাঙড়-১ ব্লকের তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদও বাদলস্যারকে দেখতে যান। কাইজার আহমেদকেও বাদল স্যার চিনতে পারেন এবং কাইজারও একই ভাবে তার চিকিৎসার আশ্বাস দেন। কাইজার এদিন বলেন, ‘আমরা থাকতে আপনার মতন মানুষ বিনা চিকিৎসায় এভাবে কষ্ট পাবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলব।’ এই কথা শুনে বাদল জমাদার এবং তার পরিবারের লোকজন খুশি হয়। এবার হয় তো বাদলবাবুর চিকিৎসা হবে এই আশায়।

kolkata bengali news

ভাঙড়ের রাজনীতিতে শুধু নয় জেলার রাজনীতিতে বাদল জমাদারের মতন ব্যক্তিত্ব বিরল। তিনি চার বারের বিধায়ক, দশ বছরের পঞ্চায়েত প্রধান। অত্যন্ত সৎ নিষ্ঠাবান ভদ্র নম্র আদর্শবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি কখনও কারও সঙ্গে বচসায় জড়াননি। তিনি বাসে করে ভাঙড় থেকে বিধানসভায় যেতেন। ব্যাঙ্ক বা পোষ্ট অফিসের লাইনে জনগণের সঙ্গে দাঁড়াতেন। বিধায়ক বলে তিনি কোন দিন অ্যাডভান্টেজ নেননি। এমনকি নিজের ছেলে মেয়েদের চাকরি করে দেওয়া বা অবৈধ সম্পত্তি করা বা কোন কিছু করেনি। সেই জন্য বিরোধী দলের নেতারাও আজ দেখতে যাচ্ছেন তাকে। বাদল জমাদারের ছোট ছেলে আনারুল জমাদার বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতারা বাবাকে দেখতে আসছে। এটা হচ্ছে বাবার ভালো কাজের ফল। এতে আমরা আপ্লুত। এবার যদি একটু ভালো চিকিৎসা পান তাহলে বাবার শেষ জীবনটা ভালো কাটবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here