Exclusive ম্যাথু স্যামুয়েল: নারদকাণ্ডে অভিষেককে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিলেন কেডি সিং!

0
kolkata bengali news

বিশেষ প্রতিবেদন: বছর তিনেক আগে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতিতে ঝড় তুলে দিয়েছিল সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলের করা একটি স্টিং অপারেশন। যেই ভিডিওতে রাজ্যের শাসক দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী-সাংসদদের প্রকাশ্যে ঘুষ নিতে দেখা যায় (যদিও মহানগর সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি)। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বিস্ফোরক ভিডিওতে প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় তৃণমূল নেতৃত্বের সততা। এই স্টিং অপারেশন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উঠে একাধিক প্রশ্ন। সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রথমবার ক্যামেরার সামনে খোলসা করলেন খোদ নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল। মহানগরের প্রতিনিধি রাজেশ সাহাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে জানালেন এই স্টিং অপারেশনের নেপথ্যের বহু বিস্ফোরক তথ্য।

ম্যাথু বহুবারই জানিয়েছেন শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের ওপর এই স্টিং অপারেশন চালানোর জন্য তাঁকে উস্কেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ কেডি সিং। কিন্তু, এই স্টিং অপারেশনের পিছনে ঠিক কতটা ভূমিকা ছিল কেডি-র? মহানগরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোনও রাখঢাক না রেখেই বলে দিলেন ম্যাথু।

নারদকর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল বলেন, ‘কেডি সিং ছিলেন তহেলকার (স্টিং অপারেশনের জন্য বিখ্যাত পোর্টাল) মালিক। তহেলকার পুনর্জন্ম দিতে উনি চেয়েছিলেন একটা বড় স্টোরি করতে। কেননা তরুণ তেজপালের পর পুরো তহেলকার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কেউ আর কাজ করতে চাইছিল না। তাই ওরা আমাকে সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করে। কারণ ২০০১ সালে আমিই তহেলকার লিড স্টোরি করেছিলাম। তহেলকা যা সেটার জন্ম আমিই দিয়েছিলাম। তাই ওরা আমাকেই ডেকে নতুন করে শুরু করে। এই স্টোরিটা (নারদ) করার পর আমি দু’বছর অপেক্ষাও করেছিলাম।’

কিন্তু তৃণমূলে থেকেই কেন এই স্টিং অপারেশন করালেন কেডি সিং? প্রশ্ন করা হলে ম্যাথু জানান, ‘কেডি সিং যখন আমায় তহেলকার হয়ে এই স্টোরিটা করতে বলেন তখন উনি তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন না। তখন উনি ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সাংসদ ছিলেন রাজ্যসভাতে। তারপরেই উনি তৃণমূল যোগ দেন।’ তাহলে তৃণমূল নেতাদের সম্পর্কে সব কিছু জানা সত্ত্বেও কেন তৃণমূলে যোগ দেন কেডি সিং? ম্যাথুর জবাব, ‘এটাই হচ্ছে খেলা। কিন্তু নারদার ভিডিয়োগুলো শুট হওয়ার পর উনি তৃণমূলে চলে গেলেন। তখন আমার সন্দেহ হলেও ভিডয়োগুলো আদৌ প্রকাশ হবে কি হবে না। এরপর যখন আমি জোর করলাম ভিডিয়োগুলো প্রকাশ করার জন্য তখন উনি বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর স্টিং অপারেশন চালাও। ডেরেক ও’ব্রায়েনের ওপর চালাও। এর ওপর ওর ওপর চালাও। তারপর আমি প্রকাশ করব। তখন আমি না বলে দিয়েছিলাম। কেননা যেটুকু আমাদের কাছে ছিল সেটা যথেষ্ট। তারপরেই আমার সন্দেহ হল যে হয়তো কেডি সিং এদের ব্ল্যাকমেল করার জন্য সেই ভিডিয়ো ব্যবহার করতে পারেন।’

বলাই বাহুল্য, দু’বছর কেটে গেলেও তেহেলকার তরফে সেই ভিডিয়ো আর প্রকাশ করা হয়নি। এরপরই নারদ নামের পোর্টাল বানিয়ে এই ভিডিয়োগুলি প্রকাশ করেন ম্যাথু। তারপর যা হয়েছিল বাকিটা ইতিহাস।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here