মহানগর ওয়েবডেস্ক: রায়দিঘীর তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায় যে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তা একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্তু এই যোগদানের পথে কাঁটার মতো দাঁড়িয়ে রয়েছেন বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত যুগল শোভন-বৈশাখী। ফলে একদিকে যেমন দেবশ্রীকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে শান্ত রাখার পালা চলছে। পাল্লা দিয়ে এই চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হচ্ছে যাতে শোভন বেশি গোঁসা না করেন।

শোভন-বৈশাখীর বিজেপি যোগ দেওয়ার দিন থেকে যে নাটক শুরু হয়েছিল, তার যবনিকা পতনের কোনও ইঙ্গিত এখনও পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। কেননা বুধবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ আচমকাই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সল্টলেকের বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হন দেবশ্রী রায়। যদিও তখন দিলীপ বাড়িতে ছিলেন না বলেই খবর। দেবশ্রী দীর্ঘ সময় দিলীপের জন্য অপেক্ষা করলেও গাড়ি থেকে নামেননি। সাংবাদিক মহল খবর পেয়ে পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পর ফিরে আসেন দিলীপ। কিন্তু দেবশ্রী ততক্ষণে চলে গিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, দিলীপের ডাকেই তাঁর বাড়ির সামনে অত রাতে হাজির হয়েছিলেন দেবশ্রী। অন্যদিকে গোটা ঘটনা সম্পর্কে বিজেপি রাজ্য সভাপতির ব্যাখ্যা, ‘আমি কাউকে ডাকিনি। দেখা করার প্রশ্ন নেই। উনি এসেছিলেন তাও জানি না।’

তবে জল্পনা তীব্র হতো না যদি না অন্যদিক দিয়ে আগুনে জল ঢালার চেষ্টা চলতো। সূত্রের খবর, যে সময় দিলীপের বাড়ির সামনে দেবশ্রী অপেক্ষারত অবস্থায়, তখন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন ও জয়প্রকাশ মজুমদার। প্রত্যাশিতভাবেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বৈশাখীও। সূত্রের খবর, বিজেপির পক্ষ থেকে যারপরনাই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে শোভন-বৈশাখীকে বোঝানোর। প্রাক্তন মহানাগরিক দলীয় শৃঙ্খলা নামক বেড়িতে বাঁধা পড়ে খানিক নমনীয় হলেও বৈশাখীর সে সবের বালাই নেই। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও বৈশাখীকে নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে নারাজ। তাদের পাখির চোখ শোভনই। তবে দেবশ্রী সত্যিই বিজেপিতে যোগ দিলে বান্ধবী বিনে শোভন পদ্ম বনে কতদিন বসে থাকেন, তাও দেখার বিষয় হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here