wb assembly

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিধানসভার বাম বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে ‘কুকথা’ তৃণমূল বিধায়কের৷ বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের অহরহ শালীনতার পাঠ দিয়ে থাকেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এবার আইনসভার অন্দরে তাদেরই বিধায়ক অশালীন আচরণের নতুন নজির সৃষ্টি করায় চরম বিড়ম্বনায় পড়ে শাসক দলের পরিষদীয় নেতৃত্ব। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অবশ্য পরে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেন ওই তৃণমূল বিধায়ক। বিধায়কের মন্তব্য দল অনুমোদন করে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যও মুছে দেওয়া হয়েছে অধিবেশনের কার্যবিবরণী থেকে৷ কিন্তু তাতে ড্যামেজ কন্ট্রোল হয়নি তা বলাই বাহুল্য।

ইদানিং বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ বিরোধী নেতাদের মন্তব্য নিয়ে বারবার অশালীনতার অভিযোগ তোলে তৃণমূল নেতৃত্ব। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসককে একহাত নেওয়ার সুযোগ ছাড়তে নারাজ বিরোধীরা। এই ঘটনা নিয়ে একযোগে তারা পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন শাসক দলকে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নার্গিস বেগম এদিন বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নেন৷ বাজেট আলোচনায় ভাষণ নিতে গিয়ে নার্গিস বেগমকে উদ্দেশ্য করে বিরোধী দলের অন্যান্য বিধায়করা আলোচনার করতে থাকেন৷ দু-একটি কটাক্ষও ছুড়তে থাকেন বিধায়করা৷ তৃণমূল বিধায়কের ভাষণের বিরোধিতা করে ব্যঙ্গ করেন জামুড়িয়ার বাম বিধায়ক জাহানারা খান৷ নিজের আসন থেকে দাঁড়িয়ে তৃণমূল বিধায়কের উদ্দেশ্যে বেশকিছু কটাক্ষ করছেন তিনি৷ কিন্তু হঠাৎই নার্গিস বেগম মাইকে অত্যন্ত অশ্লীল একটি শব্দ প্রয়োগ করেন৷ তৃণমূল বিধায়কের অশ্লীল মন্তব্য লেখার অযোগ্য৷ জাহানারা খানের উদ্দেশ্যে সেই শব্দ প্রয়োগ করেন তৃণমূল বিধায়ক৷ তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্য এতটাই অসংসদীয়, তা পরে বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়৷

এরপর নার্গিস বেগম বক্তব্য শেষ হওয়ার পর জাহানারা খান ডেপুটি স্পিকারের কাছে যান৷ প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর জাহানারা খান ও বাম ও কংগ্রেস বিধায়করা অধ্যক্ষের ঘরে যান৷ সেখানে কেঁদে ফেলেন তিনি৷ অবিলম্বে তৃণমূল বিধায়ককে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়৷ নার্গিস বেগম যখন কুরুচিকর মন্তব্য করেন, তখন সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁরা রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেন৷ অধ্যক্ষ ঘরে গিয়ে জাহানারা খান কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ বিধানসভার ভেতরে তাঁকে যে এই ধরনের কুৎসিত মন্তব্য শুনতে হবে, তা তিনি ভাবতেই পারেননি৷ তিনি এর বিচার চান বলেও তোলেন দাবি৷ এরপর অধ্যক্ষ সমস্ত দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন৷

দ্বিতীয় পর্বে সুজন চক্রবর্তী জানান, তৃণমূল বিধায়ক যা বলছেন, তাঁরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবেন না৷ কিন্তু তাঁরা চান এটার বিহিত হোক৷ এরপর পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, এই মন্তব্য তৃণমূল কখনও সমর্থন করে না৷ এটা নিন্দনীয়৷ পরে স্পিকারের নির্দেশে নার্গিস বেগম জাহানারা খানের কাছে হাতজোড় করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন৷ বলেন, আমি ক্ষমা চাইছি৷ কিন্তু বিধানসভার মধ্যে প্রকাশ অযোগ্য ভাষা উচ্চারিত হওয়ায় পরে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়৷ এই ঘটনায় সমস্ত বিধায়কদের রীতিমত অবাক করে দিয়েছে৷ সাধারণত বিধানসভায় বহু বিতর্ক হয়৷ একজন অন্য জনের বিরুদ্ধে নানারকম আক্রমণ করেন৷ কিন্তু এরকম ভাষা বিধানসভায় প্রয়োগ করা সাম্প্রতিক কালে কখনও হয়েছে কি না তা মনে করতে পারছেন না বিধায়করা৷

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here