নিজস্ব প্রতিবেদক, পুরুলিয়া: তিনদিন আগেই যে মাঠে সভা করে দিদিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গেছিলেন শাহ অমিত এদিন সেই সভাস্থলেই মঞ্চ বেঁধে তাদেরকেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন দিদির সৈনিকেরা। শুধু চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়াই নয়, জেলা থেকে রীতিমত গেরুয়া হঠাবার ডাকও দিয়ে গেলেন সেই সবুজ শিবিরের সেনারা। রবিবার পুরুলিয়া শহরের পাশে শিমুলিয়ার ফুটবল মাঠে তৃণমূলের সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শশী পাজাঁ, আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, বিধায়ক মহুয়া মৈত্র, মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু প্রমুখরা।

এদিন সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে শুভেন্দু বলেন,’কেন্দ্র সরকার বাংলাকে টাকা দিচ্ছে বলে ভেবে নেবেন না তারা দয়া করছে। এটা যুক্ত রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো। এখানে কেন্দ্র দিচ্ছে এটা আবার কি? এটা আমাদের হকের টা্রছ, কেন্দ্র সেটাই দিচ্ছে। বিজেপি এখানে যে সভা করেছিল সেটা ছিল ঝাড়খন্ড, বিহার, উত্তর প্রদেশের সভা। আজকে এটা বাংলার সভা। অমিত শাহ এখানে এসে বলেছিলেন, যে এখানের মানুষ পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে জল আনতে যান। তিনি মিথ্যা বলেছিলেন। মমতা ব্যানার্জীর আমলে মানুষ ট্যাপ খুললেই জল পান। কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে তৃনমুল ঘরে ঘরে। ৩৪ বছর মানুষ বাম জমানা দেখেছে। বিজেপি বলছে ২১, আরে আগে ১৯ সামলা তার পর ২১। দিল্লীতে বাঙালী প্রধানমন্ত্রী চাই। এ রাজ্যের ৪২এ ৪২ আসন চাই। আমি অমিতজিকে বলতে চাই আগে তুই দিল্লী সামলা তার পরে ভাববি বাঙালা। পাঁচ বারের সাংসদ তার গোরক্ষপুর আসনের উপনির্বাচনে নিজের  দলের প্রার্থীকেই জেতাতে পারল না। আর আমার ছেড়ে আসা লোকসভার আসনে যখন উপনির্বাচন হল তখন আমার ভাই দিব্যেন্দু আমার প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে দ্বিগুণ ভোটে জিতেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরুলিয়ায় হতে পারে কোনো কোনো জায়গায় একটু আমদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। কিন্তু বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে চমক দিয়ে ভোটে জিতে যাবেন সেতা কিন্তু একদম ভাববেন না। দু হাজার উনিশ বিজেপি ফিনিস।

রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন,’পশ্চিমবঙ্গে একটা এমন সময় ছিল যখন আপনার বাবাদেরও এখানে এসে সভা করার ক্ষমতা ছিল না। একটা মোটা লোক নাদুস নুদুস করে চলে এলেন, আর যা পারলেন বকে দিলেন। গুজরাটের একটা এনকাউন্টারিস্ট এখানে এসে বড় বড় কথা বলছেন। ঝাড়খণ্ডের মাওবাদীদের টাকা দিয়ে এখানে ভোট করানো হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের মাওবাদীদের দিয়ে খুন করে তৃনমূলের নামে দোষ চাপানো হচ্ছে। কিন্তু কতদিন আর এসব করবেন। দুহাজার উনিশেই সব ফিনিশ হয়ে যাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here