ডেস্ক: পঞ্চায়েত নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে নতুন করে মনোনয়নের দিনক্ষণ বাড়ানো হলেও, তাতে যে শাসকদলের প্রতিপত্তিতে খুব বিশেষ প্রভাব পড়েনি তা জেলায় জেলায় পঞ্চায়েত আসনের হালহকিকত দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ শাসক দলের গুন্ডামি ও ভয় দেখানোর জন্যই বিরোধীরা সেভাবে কোনও সুযোগ পাচ্ছে না গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। ট্রেনে, বাসে, চায়ের টেবিলে বসা জটলার গুঞ্জনও বিরোধীদের দিকেই ওজন বাড়াচ্ছে। তবে হাওয়ায় ভাষা গুঞ্জনকে খুব বিশেষ পাত্তা না দিয়ে ইতিহাসের আলেকজান্ডারের মতো রাজ্যে একের পর এক আসন দখলের পথে এগিয়ে চলেছে শাসক দল তৃণমূল।

বীরভূম, বাঁকুড়া আগেই দখল করেছিল শাসক দল। এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অধীর চৌধুরীর গড় মুর্শিদাবাদের দখল নিলো তারা। ৭০ আসন বিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ জেলাপরিষদ-এ বিনা লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল জিতে গিয়েছে ৪০টি আসন। শনিবার মনোনয়নের শেষ দিন এই শেষ দিনে আরও কিছু আসন তৃণমূল নিজেদের করায়ত্ত করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যে দুই দফা মনোনয়নের (একটি নির্বাচন কমিশন ঘোষিত, অন্যটি আদালতের রায়ের পর ফের মনোনয়নের দিন বাড়ানো) প্রথমপর্বে ১৬টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল তৃণমূল। পরে নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রত্যাহারের দিন ধার্য করায় মুর্শিদাবাদে ঘটি উল্টেছে শাসক দলের। মনোনয়নের নতুন দিনে নতুন করে মনোনয়ন দাখিল তো দূরের কথা, প্রত্যাহারের হিড়িক লেগেছে বিরোধীদের মধ্যে। এদিকে চেনা ছকে শাসক দলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ছুঁড়তে শুরু করেছে বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, যারা মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছে তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে শাসকদলের গুন্ডারা। খুনের হুমকি দিচ্ছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁদেরকে নানারকমভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে শাসকদল। খুব স্বাভাবিকভাবে মনোনয়নপত্র তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে বিরোধীরা। তবে এইসব অভিযোগকে খুব বিশেষ আমল দিতে রাজি নয় শাসকদল। বীরভূমের কেষ্টবাবুর মতো, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা উন্নয়নের দোহাই দিয়ে তাদের দাবি, ‘উন্নয়নের সামনে টিকতে পারছে না বিরোধীরা। প্রার্থী নেই তাই এই অজুহাত।’

অন্যদিকে, পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে শুক্রবার ফের মামলা দায়ের করেছে বিরোধীরা। বিরোধীদের সেই মামলা গ্রহণ করে সরকারকে ৪ মের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এদিকে, শনিবার পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজ্যের সমস্ত দলকে বৈঠকের জন্য ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে ভোটের নিরাপত্তায় যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে সেই জন্য ভিনরাজ্য থেকে পুলিশ আনা হবে বলে জানা যাচ্ছে নবান্ন সূত্রে। সেইসঙ্গে, কারা দফতরের রক্ষীদেরও ভোটের নিরাপত্তার কাজে লাগানো হবে। কারাদপ্তর থেকে কাদেরকে ভোটের নিরাপত্তার জন্য নেওয়া হবে তার তালিকা প্রকাশ করেছেন কারাদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অরুন কুমার গুপ্তা৷ তিনি জানান, কারাদপ্তরের ৩০ শতাংশ কর্মীকে ভোটের কাজে লাগানো হবে৷ এই প্রসঙ্গে জেল সুপারদের চিঠিও দিয়েছেন তিনি। ভোটের ৭দিন আগে থেকে ছুটি বাতিল করা হবে জেল কর্মীদের৷ মোটামুটি ভোট পরিচালনা করতে আয়জনের কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছে না রাজ্য। তবে এতো আয়োজনের মাঝে বিরোধীদের কটাক্ষ অবশ্য বন্ধ হয়নি। তাঁদের দাবি, ‘গণতন্ত্রকে ধুলিস্যাৎ করে কোনও আসনে বিরোধীদের প্রার্থীই দিতে দিল না শাসকদল। তৃণমূলের গুন্ডারাজ চলছে বাংলায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here