kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারাসত: সব বাধা ডিঙিয়ে শেষ হাসি হাসলেন সেই শঙ্কর আঢ্যই, যাকে পদ থেকে সরানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলেন তারই দলের কয়েকজন কাউন্সিলর। পাশাপাশি তৃণমূলকে ধাক্কা দিতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিল বিজেপিও। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যার্থ হল জেলা শাসকের কার্যালয়ে। বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা ভোটে জয়ী হল সেই তৃণমূলই। যদিও দুই দিন আগে থেকেই এই জয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছিল। লক্ষ্যণীয় ভাবে এদিনের অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিতে অংশই নেয়নি গেরুয়া শিবিরের কাউন্সিলররা। অনুপস্থিত ছিলেন এক বাম কাউন্সিলরও। সব মিলিয়ে ১৪-০ ভোটে জয়ী হয়ে বনগাঁ পুরসভায় পুরপ্রধান পদে রয়েই গেলেন শঙ্কর আঢ্য।

চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্য থেকে ১৮টি আসন পেয়ে কার্যত হাতে চাঁ পেয়ে গিয়েছিল বিজেপি। এই ১৮টি আসনের মধ্যে ২টি এসেছিল আবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে। ব্যারাকপুর আর বনগাঁ। সেই ফলাফলের পরই বিজেপি কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিল তৃণমূলের হাতে থাকা একের পর এক পুরসভা দখল করতে। প্রাথমিক ভাবে তারা এই লড়াইয়ে সফলও হয়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একাধিক পুরসভার ক্ষমতা হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। কিন্তু ছবিটা ঘুরে যায় এক দেড় মাস ঘুরতে না ঘুরতেই। যে সব পুরসভা তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি সেই সব পুরসভা ফের তৃণমূলের দখলে চলে আসে বিদ্রোহী বিজেপিগামী কাউন্সিলররা ফের তৃণমূলে ফিরে আসায়। এবার সেই একই ছবি ধরা পড়ল উত্তর ২৪ পরগনা জেলারই বনগাঁ পুরসভায়। গত জুলাই মাসে এই পুরসভার পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব তোলেন তৃণমূলেরই ১২জন কাউন্সিলর। পরে তারা আবার দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগদানও করেন। গত ১৬ জুলাই এই পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিকে ঘুরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বনগাঁ পুরসভা ভবন সংলগ্ন এলাকা। সেদিন অভিযোগ উঠেছিল বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূলের ওই ১২জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২জনকে সেদিন পুরভবনে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি আস্থা ভোটে অংশগ্রহণ করার জন্য। যদিও দুই তরফেই দাবি করা হয় যে আস্থা ভোটে তারা জয়ী হয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে এরপর মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার জেরে আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনকে যে, তারা যেন বিজেপিতে যোগ দেওয়া কাউন্সিলরদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করেন যাতে তারা অনাস্থা ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেন। সেই সঙ্গে ১৬জুলাই বনগাঁ পুরসভা ভবনে যে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়েছিল তা বাতিল করে ফের নতুন করে ওই ভোট নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই সঙ্গে এটাও হাইকোর্টের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় এবার বনগাঁ পুরসভার এই অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জেলা শাসকের কার্যালয়ে। সেই মতো এদিন জেলা শাসকের কার্যালয় মুড়ে দেওয়া হয়েছিল কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনিতে। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ে তৃণমূলের ১৩জন কাউন্সিলর ও ১জন কংগ্রেস কাউন্সিলর হাজির হলেও উপস্থিত হননি কোন বিজেপি বা বাম কাউন্সিলররা। তার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন ১৪-০ ভোটে জয়ী হন শঙ্কর আঢ্য। তিনিই আবারও বনগাঁর পুরপ্রধান হিসাবে থেকে গেলেন। লক্ষ্যণীয় ভাবে এদিন এক কংগ্রেস কাউন্সিলরের ভোটও পেয়েছেন শঙ্কর আঢ্য।

এদিনের অনাস্থা প্রস্তাবে যে তৃণমূলই জিততে চলেছে সেটা অবশ্য গত দু-তিন দিন ধরেই বোঝা যাচ্ছিল। কারন, ২২ আসন বিশিষ্ট এই পুরসভায় তৃণমূলের মোট কাউন্সিলর ছিলেন ২০জন। সিপিএম ও কংগ্রেসের কাউন্সিলর ছিলেন ১জন করে। শঙ্কর আঢ্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে তৃণমূলের ১২জন কাউন্সিলর দিল্লি গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। ১৬জুলাই যদি ঠিকঠাক ভাবে অনাস্থা প্রস্যাবের ওপর ভোটাভুটি হত তাহলে হয়ত তখন হেরেই যেত তৃণমূল। কারন সেই সময় শঙ্করবাবুর পক্ষে ছিলেন মাত্র ৮জন দলীয় কাউন্সিলর। যদিও পরে বিজেপিতে যাওয়া ১জন কাউন্সিলরকে দলে ফিরিয়ে নেয় তৃণমূল। পরে আরও ৪জনকে দলে ফেরায় তারা। এর জেরে এই মুহুর্তে তৃণমূলের হাতে থাকা কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়ায় গিয়ে ১৩তে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষে থাকা কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭এ। এর জেরেই বোঝা যাচ্ছিল শঙ্কর আঢ্যের জয় কার্যত ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এদিন সম্ভবত তাই হার নিশ্চিত বুঝেই আস্থাভোটে আর যোগ দিতে আসেননি বিজেপি ও সিপিএম কাউন্সিলাররা। যদিও কাউন্সিলরদের নিরাপত্তা প্রদানকে ঘিরে এদিন সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনিক ভবনকে কার্যত দুর্গ বানিয়ে ফেলে পুলিস। রাস্তায় ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। কর্মীদের আলাদা পরিচয়পত্র দেখিয়েই ভবনে ঢুকতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here