ডেস্ক: আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া, রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সেজে উঠল পুরীর জগন্নাথ মন্দির। রথযাত্রার এই পূণ্যলগ্নে গোটা পুরীজুড়ে উৎসবের সামিল হয়েছেন লক্ষ লক্ষ দেশী বিদেশী ভক্তরা। টানা ৯ দিন ধরে চলবে এই উৎসব। এদিন সকাল থেকেই সাজো সাজো রব পুরীতে। ব্যাপক লোক সমাগমকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরীর মন্দির সংলগ্ন এলাকা।

পুরীর রথের কিছু তথ্য

পুরীর রথযাত্রার শুরুতেই থাকে বলভদ্রের রথ। বলভদ্রকে বলা হয় গুরুর প্রতীক। এরপর সুভদ্রার রথ। সুভদ্রা হলেন ভক্তির প্রতীক। সবশেষে জগন্নাথের রথ। তিনি হলেন ঈশ্বরের প্রতীক। কথিত আছে গুরুর হাত ধরেই ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছন যায় সহজে। আর এই রথেরও রয়েছে বিশেষ বিশিষ্ট। জানা যায়, মানবদেহে যেহেতু ২০৬টি হাড় থাকে, তাই পুরীর রথও তৈরি হয়েছে ২০৬টি কাঠ দিয়ে। কারণ পুরীর রথকে মানবদেহ হিসেবেই দেখা হয়। এর অর্থ, মানবদেহেই ঈশ্বরের অধিষ্ঠান। প্রথমে যাত্রা শুরু করে বড় ভাই বলভদ্রের রথ। এই রথের নাম তালধ্বজ। রথটির ১৪টি চাকা। উচ্চতা ৪৪ ফুট। রথের আবরণের রঙ নীল। তারপর যাত্রা করে সুভদ্রার রথ। রথের নাম দর্পদলন। উচ্চতা প্রায় ৪৩ ফুট। এই রথের মোট ১২টি চাকা। যেহেতু রথটির ধ্বজা বা পতাকায় পদ্মচিহ্ন আঁকা রয়েছে তাই রথটিকে পদ্মধ্বজও বলা হয়ে থাকে। রথের আবরণের রঙ লাল। সবশেষে থাকে জগন্নাথদেবের রথ। রথটির নাম নন্দীঘোষ। পতাকায় কপিরাজ হনুমানের মূর্তি আঁকা রয়েছে তাই এই রথের আর একটি নাম কপিধ্বজ। রথটির উচ্চতা ৪৫ ফুট। এতে ১৬টি চাকা আছে। প্রতিটি চাকার ব্যাস ৭ ফুট। রথটির আবরণের রঙ হলুদ। তবে সব রথেরই উপরিভাগ হয় লাল রংয়ের।

পুরীর রথযাত্রার ইতিহাস

পুরীর রথযাত্রা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে ওড়িশার প্রাচীন পুঁথিতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ইতিহাস প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে এই রথযাত্রার প্রচলন হয়েছিল প্রায় সত্যযুগে। সে সময় আজকের ওড়িশার নাম ছিল মালবদেশ। সেই মালবদেশের অবন্তীনগরী রাজ্যে ইন্দ্রদ্যুম্ন নামে সূর্যবংশীয় এক পরম বিষ্ণুভক্ত রাজা ছিলেন, যিনি ভগবান বিষ্ণুর এই জগন্নাথরূপী মূর্তির রথযাত্রা শুরু করার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। পরবর্তিকালে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন পুরীর এই জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ ও রথযাত্রার প্রচলন করেন। সেই থেকে রাজপরিবারের নিয়ম অনুসারে যিনি রাজা উপাধি প্রাপ্ত হন, তিনি জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাদেবীর রথের সামনে এসে পুষ্পাঞ্জলি দেন এবং সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের সামনে ঝাঁট দেওয়ার পরই পুরীর রথের রশিতে টান পড়ে। শুরু হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।

শনিবার পুরীর রথযাত্রাকে ঘিরে রয়েছে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনি। ১৪০ টি নিরাপত্তিরক্ষী দলের সর্বক্ষনের নজরদারির পাশাপাশি, মোতায়েন রয়েছে ১ হাজার পুলিশ অফিসার। রয়েছে র‍্যাফ ও ওড়িশা সুইফট অ্যাকশন ফোর্সের দু’টি ইউনিট। এদিনের রথযাত্রা শুরুর আগে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন দেশের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এদিন ঠিক বিকেল ৬ টায় টান পড়বে পুরীর রথের রশিতে। জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা এই তিন দেব দেবীর রথ পাড়ি দেবে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here