bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা:  কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত সুরক্ষা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভারত-বাংলাদেশ জলসীমাতে বিএসএফের পাশাপাশি উপকূলরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি, মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একাধিক উপকূল থানা তৈরি করেছে রাজ্য সরকারও। কারণ জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কারণে অনুপ্রবেশ ঠেকানো তুলনায় সহজ হলেও উন্মুক্ত জলসীমায় সে সুবিধা নেই। এবার সুন্দরবন এলাকায় জলপথে চোরাকারবারীদের দৌরাত্ম্য রুখতে উদ‍্যোগী হল কাস্টমস। এরই মধ্যে ৩ টি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ৩ টি ষ্টেশন। হলদিয়া, নামখানা, হেমনগর এই তিন ষ্টেশন থেকে পেট্রোলিং চালাবে কাস্টমসের আধিকারীকরা। এর জন্য ১৪টি উন্নতমানের ভেসেল ও নিরাপত্তারক্ষীও নিয়োগ করা হয়েছে। ১৫৭ কিলোমিটার জলপথে কড়া নজরদারি চালাবে তাঁরা।

কাস্টমসের মুখ্য কমিশনার এস আর বড়ুয়া এখবর জানিয়ে বলেন, এতদিন কোনও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা থেকে অভিযান চালাতে হত। যার ফলে অভিযান চালানোর আগেই চোরাকারবারীরা নাগালের বাইরে বেরিয়ে যেত। এবার তা হবে না। নামখানা ষ্টেশন থেকে সাগর, হেনরি ব-দ্বীপ, জম্মুদ্বীপে নজরদারি চালানো সহজ হবে। অনুরূপভাবে হেমনগর থেকে বসিরহাট, হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ, ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও নজরদারী চালানো হবে। আশা, চোরাকারবারীদের রমারমা রুখতে এই ষ্টেশনগুলি অনেকটাই সাহায‍্য করবে।

পুলিশ সূত্রের খবর, সুন্দরবনে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত মাছের প্রজননের সময়টুকু বাদ দিলে সারা বছরই সুন্দরবনের নদীতে-ভারানি-দোয়ানিতে মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন হাজার হাজার মৎস্যজীবী। বেশিরভাগ সময়ই সীমান্তবর্তী রায়মঙ্গল এমনকী বিদ্যাধরী, মাতলা, ঠাকুরান নদীতে বাংলাদেশী জলদস্যুরা নৌকায় থাকা টাকা-পয়সা, মাছ ধরার জাল এমনকী, কাঁকড়া ও মাছ লুঠ করে। অপহৃত মৎস্যজীবিদের নিয়ে বাংলাদেশের তালপট্টিচর বা ভারতীয় জলসীমার অন্দরের কোনও দুর্গম খাঁড়িতে আত্মগোপন করে থাকে। উপকূলবর্তী থানাগুলিকে বাংলাদেশী জলদস্যুদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য দেওয়া রয়েছে আধুনিক ইন্সাস এবং ৭.৬২ এসএলআর-এর মতো আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here