আজ হাইকোর্টে মুক্তির প্রতীক্ষায় ছত্রধর মাহাতো সহ ৬ রাজনৈতিক বন্দি

0

রূপম চট্টোপাধ্যায়: আজ কলকাতা হাইকোর্টে জয় সেনগুপ্ত ও মমতাজ হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চে ৬ মাওবাদী বন্দির জামিন মামলার চূড়ান্ত রায়। ২০০৯ সাল থেকে জেলে আছেন ছত্রধর মাহাতো, শম্ভু সোরেন, শাগুন মুর্মূ, সুখশান্তি বাস্কে, রাজা সরখেল এবং প্রসূন চট্টোপাধ্যায়। এঁদের মধ্যে রাজা ও প্রসূন কলকাতার বাসিন্দা, বাকি চারজন রাজনৈতিক বন্দি মূলত জঙ্গলমহলের মানুষ।

২০০৮-০৯ সালের লালগড় আন্দোলনের সময় এরা সক্রিয়ভাবে জনসাধারণের কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজা সরখেলরা মানবাধিকার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। এঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি অধিকাংশই ভিত্তিহীন বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। ছত্রধর মাহাতো বিগত বাম সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাঁকে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা সাংবাদিক সেজে ডেকে এনে গ্রেফতার করে। তাঁর এই গ্রেফতারি ঘিরে সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল যে, পুলিশ কীভাবে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেফতার করল। এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন বহু সাংবাদিক। পরবর্তীকালে, ছত্রধর মাহাতো তাঁর বিরুদ্ধে আনা ৩০টি মামলাতেই জামিন পেয়ে যান। কিন্তু তাঁকে জেলে আটকে রাখার জন্য ইউএপিএ ধারা প্রয়োগ করা হয়। বাম আমল থেকেই এঁরা জেলে আছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার আগে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি পালন তৃণমূল করেনি বলে অভিযোগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘এপিডিআর’।

ইতিমধ্যেই বিনা বিচারে দীর্ঘদিন কারাবাসের ফলে অসুস্থ হয়ে জেলেই মৃত্যু হয়েছে রঞ্জিত মুর্মূ নামে আরও এক রাজনৈতিক বন্দির। এই জামিন মামলায় রঞ্জিত মুর্মূও সামিল ছিল, কিন্তু তার অকালমৃত্যু তাকে আর জেলের বাইরে বেরতে দিল না। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিক বন্দিদের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করা হচ্ছে, একইসঙ্গে জেলে এদের চিকিৎসা ব্যবস্থাও অত্যন্ত নিচুমানের। এর আগে জেলে অসুস্থ হয়ে দুই মাওবাদী বন্দির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। স্বপন দাশগুপ্ত ও সুদীপ চোঙদার এই চক্রান্তের শিকার বলে মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ। আজ বিচারপতি মমতাজ হোসেনের কর্মজীবনের শেষদিন। এই শেষদিনে স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন তিনি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়ে যান কিনা তার দিকে তাকিয়ে বহু নাগরিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here