ডেস্ক: দিনক্ষনের হিসাবে ১৩ আষাড় অর্থাৎ বৃহস্পতিবার জগন্নাথধাম পুরীতো বটেই দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে জগন্নাথের স্নান যাত্রা। এদিন সকাল থেকেই শ্রীক্ষেত্র পুরী ধামে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। থিকথিকে ভিড়ে প্রভুর স্নানের দৃশ্য দেখতে উপছে পড়েছেন জগন্নাথ ভক্তরা।

এই বিশেষ দিনে চন্দন, আতর সহ বিভিন্ন সুগন্ধি দিয়ে পবিত্র জল এনে রাখা হয় গর্ভগৃহের স্নানবেদিতে। সুগন্ধি ধূপ দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হয় স্নানমঞ্চ। তারপর মন্দিরের দক্ষিণ কূপ থেকে স্নানের জল আনেন প্রভু জগন্নাথের সেবকরা। সেই জল সুগন্ধ দ্রব্যে সুবাসিত করে ‘পাবমানী’ মন্ত্রে সোনার কলস পরিপূর্ণ ও অধিবাস করেন গর্ভমন্দিরে। তারপর শুরু হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নানমঞ্চে নিয়ে আসার প্রস্তুতি।

সুন্দর পট্টবস্ত্র দিয়ে ঢেকে জগন্নাথদেব সহ বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে আসা হয় স্নানমঞ্চে। স্নানমঞ্চে নিয়ে আসার সময় চামর ও তালপাতা দিয়ে তিন দেবতাকে বাতাস করা হয়। সকলে যাতে স্নানের অনুষ্ঠান ‌দর্শন‌ করতে পারেন সেজন্য পুরী মন্দিরে একটি উঁচু বেদী করা হয়েছে। যাতে পুরীর প্রশস্ত রাজপথ ‘বড়দাণ্ড’ থেকেও সকলে প্রভুর স্নানযাত্রা প্রত্যক্ষ করতে পারেন। মহা সমারোহে ভোরবেলা ব্রহ্মার সঙ্গে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নান সম্পূর্ণ করা হয়। স্নানের পর জগন্নাথ ও বলরামের হাতি বেশ বা গণেশ বেশ হয়ে থাকে।

কিন্তু কেন পালন করা হয় জগন্নাথ দেবের এই স্নান যাত্রা? কথিত আছে, প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নাকি মাথার যন্ত্রণায় কাহিল হয়ে পড়েন জগন্নাথদেব, তখন তাঁর মাথায় লাগানো হয় চন্দনের প্রলেপ। সেই প্রলেপ তুলতেই রথযাত্রার ১৫দিন আগে স্নান করানো হয় তাঁকে। উপকথায় থাকা এই বিষয়টিকে যুগ যুগ ধরে মান্যতা দিয়ে আসছেন শ্রী জগ্ননাথ প্রভুর ভক্তরা। আবার জানা যায়, স্বয়ং জগন্নাথদেব মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মহাস্নানের পর তাঁর অঙ্গরাগবিহীন রূপ যেন কেউ না দেখেন। তাই স্নানযাত্রার পর থেকে ১৫ দিন পুরীর মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য বন্ধ থাকে। আবার অনেকের মতে, স্নান করার পর নাকি জ্বর আসে প্রভু জগন্নাথের। তাই পরের পনেরোদিন কাউকে মূর্তি দর্শন করতে দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয়, এই জ্বর সারাতে এই ১৫ দিন মিষ্টি রসের পানা বিশেষ পাচন ও নানা ধরণের মিষ্টান্ন ভোগ দেন তাঁর ভক্তরা। এসময়ে মন্দিরে জগমোহনের পাশে ‘নিরোধনগৃহে’ অবস্থান করেন জগন্নাথদেব। তবে শুধু পুরী নয়, মহাসমারোহে এই দিনটিকে পালন করা হয় বাংলার শ্রীরামপুর ও মায়াপুরেও। আর এই দিন থেকে রথযাত্রার শুভ সূচনাও হয়ে যায়। যুগ যুগ ধরে এই বিশেষ দিনটিকে পালন করে আসছেন প্রভুর দেশী বিদেশী ভক্তরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here