নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: গত বছর মার্চ মাসে বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমার লাভপুর থানার দরবারপুর গ্রামের হামিদ ও তার ছেলের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসেছিল হুগলি জেলার চুঁচুড়া থানা এলাকার বাসিন্দা কেয়া কিন্নর(বৃহন্নলা)। এরপর থেকেই তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয় ওই এলাকা থেকেই। এরপরই কেয়ার সঙ্গী বৃহন্নলরা একজোট হয়ে অভিযোগ তোলে যে হামিদ আর তার ছেলে মিলেই কেয়াকে প্রথমে শারীরিক ও মানসিকভাবে অকথ্য অত্যাচার চালায়, পরে খুন করে। শুধু অভিযোগ তোলাই নয়, তারা বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থও হয়। মামলা নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্ট হয়ে একসময় পৌঁছায় সুপ্রীম কোর্টে। সেই মামলায় সুপ্রীম কোর্ট গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।

কিন্তু এখন মামলা দায়ের করা বৃহন্নলা সমাজের অভিযোগ, সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও গত সাত মাস ধরে না সিআইডি মামলাটি নিয়ে কোন পদক্ষেপ করছে না পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতার করার পথে হাঁটছে। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে তাদের সামনে শুধু ঘুরে বেড়াচ্ছেই না, তাদের প্রাণে মারার ভয়ও দেখাচ্ছে। তারা বিষয়টি পুলিশকে বারবার জানালেও তারা কিছু করছেই না। তারই জেরে, মঙ্গলবার বীরভূমের অতিরিক্ত জেলা শাসক রঞ্জন কুমার ঝাঁ ও পুলিশ সুপার কুনাল আগরওয়াল এর কাছে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ডেপুটেশন দিল পিঙ্কি কিন্নর ও লক্ষ্মী কিন্নরের নেতৃত্বাধীন বৃহন্নলাদের একটি দল। ঘটনাচক্রে তারা এমন একটি দিনই বেছে নিল ডেপুটেশন প্রদানের জন্য যেদিন আবার নয়া দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টে ৩৭৭ ধারা নিয়ে নতুন করে শুনানী শুরু হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here