kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান থানায় স্মারকলিপি দিতে গিয়ে তৃণমূল সমর্থকরা পুলিশের সামনেই বেধড়ক পেটালেন বিজেপি কর্মীদের। তৃণমূলের হাতে বেধড়ক মারে জখম হয়েছেন বিজেপি’র প্রায় ৬জন কর্মী। থানার সামনেই পুলিশের উপস্থিতিতেই কীভাবে বিজেপি কর্মীদের ওপর তৃণমূল অত্যাচার চালাল, তা নিয়ে এদিন রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করে গেলেন বিজেপির দুই সাংসদ। রবিবার রাতের এই ঘটনার খবর পেয়েই পুরুলিয়া থেকে বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় মাহাতো এবং বাঁকুড়া থেকে বিজেপি সাংসদ ডঃ সুভাষ সরকার ছুটে আসেন বর্ধমানে। কার্জন গেটের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকান পুলিশ কর্মীরা। গাড়ি আটকানোয় পুলিশের সঙ্গে সাংসদদের তর্কাতর্কিও হয়।

প্রায় আধঘণ্টা এভাবে আটকে রাখার পর কয়েকজন বিজেপি জেলা নেতাকে নিয়ে দুই সাংসদ পুলিশ সুপারের অফিসে যান। পুলিশ তাঁদের গাড়ি আটকানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোর্তিময় মাহাতো। জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর শাসকদলের অত্যাচারের ঘটনা বন্ধ করার আবেদন জানান তাঁরা। এদিন জেলা পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দিয়ে সুভাষবাবু জানিয়েছেন, থানার সামনে যেভাবে বিজেপি কর্মীদের মারা হয়েছে তা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না। লাগাতার এই ঘটনা ঘটছে। রবিবার রাতে বর্ধমান থানায় বিজেপি কর্মীরা যখন স্মারকলিপি দিতে আসেন, সেই সময় তৃণমূল নেতা খোকন দাস এবং আব্দুর রবের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে পুলিশ সুপারের কাছে। সুভাষবাবু জানিয়েছেন, অবিলম্বে পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

অপরদিকে, রবিবার রাতের এই হামলার ঘটনা সম্পর্কে খোকন দাস জানিয়েছেন, বিজেপির কারও ওপর কোনও হামলাই চালানো হয়নি। তবে গৃহসম্পর্ক অভিযানের নামে বিজেপির কর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তৃণমূলের নামে ব‌্যাপক কুৎসা করছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছে, যা ভাল চোখে নিচ্ছেন না তৃণমল কর্মীরা। খোকন দাস জানিয়েছেন, দিনের পর দিন এভাবে চলতে পারে না। তাঁদের পক্ষেও তৃণমূল কর্মীদের আর আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রবিবার রাতে বিজেপি কর্মীদের ওপর কোনও হামলার ঘটনাই ঘটেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে, বর্ধমান শহরের বুকে একের পর এক ঘটনা ঘটে গেলেও দেখা মেলেনি বর্ধমান-দর্গাপুরের সাংসদ সুরেন্দ্র সিংহ আলুওলিয়ার। যদিও এদিন এব্যাপারে সুভাষ সরকার জানিয়েছেন, আলুওয়ালিয়া বিজেপি কর্মীদের ওপর এই আক্রমণের খবর পেয়েই পুলিশ সুপারকে ফোনে সবকিছু জানান। এমনকী তিনি ফোনে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here