kolkata bengali news, district news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বসিরহাট: ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া ব্লক। সোমবার সকাল থেকে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ঊষারানি মন্ডল ও ব্লক তৃণমূল সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের অনুগামীদের সঙ্গে হাড়োয়া পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কর্মাধ্যক্ষ খালেক মোল্লার অনুগামীদের সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাড়োয়া ব্লকের নওয়াপাড়া গ্রামে। এই সংঘর্ষে দু’পক্ষেরই কমপক্ষে ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। তারপর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেই নওয়াপাড়া গ্রামে বিধায়ক ঊষারানি মন্ডল এবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ খালেক মোল্লার অনুগামীদের মধ্যে বিবাদ বাধে। তবে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে রাতে বিবাদ বেশিদূর গড়ায়নি। তারপর এদিন সকাল হতেই ফের দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ক্রমে বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে, হাড়োয়া থানার পুলিশও সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হিমশিম খায়। নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স। তারপরই পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এখনও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশি টহল চলছে। কমব্যাট ফোর্সও মোতায়েন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই মিনাখাঁর বিধায়ক ঊষা রানি মন্ডল এবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ খালেক মোল্লার অনুগামীদের মধ্যে বিবাদ চলছে। জন্মাষ্টমীর পরের দিন ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি-তে হামলার ঘটনা নিয়েই বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল। বিধায়িকার অভিযোগ, ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চলাকালীন হাড়োয়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল খালেক মোল্লার নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের শিবিরে হামলা চালায়। তারা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করার পাশাপাশি দলীয় পতাকাও ছেঁড়ে, বোমাবাজি করে এবং তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালায়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা খালেক মোল্লা। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, বিধায়ক ঊষারানি মন্ডল তাঁর লোকজন দিয়ে এলাকার মেছো ভেড়ি দখল করেছেন এবং তাঁদের কর্মীদের মারধর করে গ্রামছাড়া করেছেন। তবে প্রকৃত ঘটনা যাই হোক না কেন, জন্মাষ্টমীর পরের দিনের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি শিবিরে হামলার ঘটনার পর থেকে প্রায় রোজই বিধায়ক ও খালেক মোল্লার অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দফায়-দফায় দু’পক্ষের এই সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন ঘরছাড়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here