নিজস্ব প্রতিবেদক, পূর্ব বর্ধমান: মাধ্যমিকে ছেলের নম্বর ঈর্ষা করার মতো। স্বপ্নও রয়েছে ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু অর্থ কই?

ছেলের ডাক্তারী হওয়ার স্বপ্নে বাধা অর্থ, চোখের জল মুছছেন ট্রাক চালক বাবা। গ্রামে পড়াশোনার পরিবেশ নেই। নেই ভাল স্কুলও। তাই সূদূর পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থানার নেড়েকোপা গ্রামের বাসিন্দা রফিক খানকে ভর্তি করা হয়েছিল বর্ধমানের সেহারাবাজার রহমানিয়া ওয়েলফেয়ার আল আমিন মিশনে। আর সেখান থেকেই এ বছর মাধ্যমিকে গোটা রাজ্যের মধ্যে থাকা ডিজি মিশনের অন্তর্ভূক্ত সমস্ত আল আমিন মিশনের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করল রফিক। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৬৮। বাংলায় ৯৪, ইংরাজীতে ৯০, অংকে ৯৯, পদার্থবিজ্ঞানে ৯৭, জীবনবিজ্ঞানে ৯৮, ইতিহাস এবং ভূগোলে ৯৫ করে নাম্বার পেয়েছে।

রফিকের বাবা আদুষ খান পেশায় ট্রাক চালক। ট্রাক চালিয়ে যে রোজগার হয় তাতে দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালানোই রীতিমত কষ্টকর। তাই ছোট ছেলে রফিকের লেখাপড়ার জন্য তাকে ৪ বছর আগে সেহারাবাজারের ওই আল আমিন মিশনে ভর্তি করে দেন। রফিক জানিয়েছে, তার লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। ইতিমধ্যেই সে হাওড়ার খলতপুরে আল আমীন মিশনে বিজ্ঞান নিয়ে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে।

যে দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে, সেই একই দারিদ্রতা রয়েছে তাঁর গ্রামেও। সেখানে ভাল ডাক্তার নেই। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও অনেক সময় পান না। তাই তাঁর লক্ষ্য ডাক্তার হয়ে অন্তত সপ্তাহে দু’দিন করে বিনা পয়সায় গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া। যদিও ছেলের এই উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে চোখে জল নেমে এসেছে ট্রাকচালক বাবার। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সামর্থ্য নেই ছেলেকে ডাক্তারী পড়ানোর। যদি কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে তবেই সম্ভব।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here