kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ভিনজেলা তথা ভিনরাজ্য থেকে আসা লরির চালক ও খালাসিরা লকডাউনের নিয়মকানুন মানছেন না অভিযোগ তুলে শালবনিতে জিন্দাল সিমেন্ট কারখানা গেট ঘেরাও করলেন গ্রামবাসীরা। মূলত, স্থানীয় গ্রামগুলির মহিলাদের বিক্ষোভে সোমবার সকালে উত্তাল হয়ে ওঠে কারখানার মূল ফটক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে পুলিশও। শেষমেষ কর্তৃপক্ষ তাদের ভুলের কথা স্বীকার করে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানায়, এবার থেকে পুরোপুরি সতর্ক থাকবে তারা।

উল্লেখ্য, লকডাউনের মাঝেই সরকারি অনুমতি নিয়ে জিন্দাল কারখানায় সিমেন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পন্য পরিবহণের জন্য প্রতিদিনই বহিরাগত লরি ঢুকছে কারখানায়। কিন্তু সেইসব লরির চালক ও খালাসিরা লকডাউনের কোনও নিয়ম মানছেন না বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা পরিষ্কার মাহাতো, ঝুমা মণ্ডলরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিদিনই ২০০ থেকে ২৫০ লরি জিন্দাল কারখানায় ঢুকছে ও বেরে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রেড জোনভুক্ত বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভিনরাজ্যগুলি থেকেও ওই লরি আসছে। কারখানার গেটের বাইরে গাড়ি রেখে চালক ও খালাসিরা যথেচ্ছ ভাবে ঘোরাঘুরি করছেন। গ্রামে ঢুকে বিভিন্ন দোকানেও চলে যাচ্ছেন। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এসবই বন্ধের দাবিতে এদিন কারখানা গেটে ভিড় জমান স্থানীয় আসনাশুলি, জামবেদিয়া, কুলফেনি প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দারা।

তাদের অভিযোগ, ওইসব বহিরাগতদের আনাগোনায় কারখানা সংলগ্ন এলাকাতেও করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়তে পারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে শালবনি থানার পুলিশও। কারখানা গেটেই দূরত্ব বজায় রেখে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা চলে। জিন্দাল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। হঠাৎ করে বেশি লরি চলে এসেছে। তবে এবার থেকে কোনও লরিই বাইরে দাঁড়াবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারা। গেটের ভেতর ঢুকে মালপত্র লোডিং-আনলোডিং করে সটান গন্তব্যের পথে বেরিয়ে পড়বে। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, বাইরে থেকে যেসব লরি শালবনির কারখানায় ঢুকবে, সেই লরিগুলিকে যেন যথাযথ ভাবে স্যানিটাইজ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here