ডেস্ক: গোটা বিশ্ব জানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট দোনাল্ড ট্রাম ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কটা ঠিক কি? তবে কথায় বলে রাজনীতিতে অসম্ভব বলে যেমন কিছু হয় না, তেমনি চির শত্রু বলেও কেউ হয় না। উত্তর কোরিয়া ও আমেরিকার সেই সাপে নেউলে সম্পর্ক কাটিয়ে এবার দিপাক্ষিক বৈঠকে বসার সম্মতি দিলেন দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধান। শুধু তাই নয়, আমেরিকা কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ইচ্ছুক তা প্রকাশ হওয়ার পর, অপর দিক থেকে কিমও জানিয়ে দিলেন আগামী মে মাস পর্যন্ত আর কোনও পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করবে না উত্তর কোরিয়া।

গোটা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দুই দেশের শত্রুতার নিরিখে সবার উপরে রয়েছে আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়া। কিন্তু শত্রু যে চিরকাল শত্রু থাকে না, আর কিছুদিনের মধ্যে তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হতে পারেন ট্রাম্প ও কিম। সূত্রের খবর, আগামী মে মাসেই হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসতে পারেন চিরশত্রু এই দুই দেশের প্রতিনিধি। আগামী মে মাস পর্যন্ত কিম কোনও রকম পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন না। তবে দুই দেশের সম্পর্কের মধুরতার ইঙ্গিতের মধ্যে রয়েছে দক্ষিন কোরিয়ার হাত। এবং ট্রাম্পের কাছে কিমের আমন্ত্রন পত্রও তুলে দিয়েছে পাশের দেশ দক্ষিন কোরিয়ার প্রতিনিধি দল। তবে আগামী এপ্রিল মাসে দক্ষিন কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়ায় যোগ দেবে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী।

এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, বৈঠকের দিঙ্কখন এখনও ঠিক না হলেও খুব শীঘ্রই এই বৈঠক হবে। এই বৈঠকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দুই দেশের আলোচনা হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই দেশের প্রতিনিধিদের এখনই বিশ্বাস করার কোনও কারন নেই। কারন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুই দেশেরই সুনাম রয়েছে। একে অপরকে বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করতেই বেশী পছন্দ করেন এঁরা। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই টুইটারে ট্রামকে কটাক্ষ করে কিম বলেন, ট্রাম্প একজন ‘পাগলা বুড়ো’। পাল্টা দিয়ে ট্রাম্প বলেন ও একটা ‘মোটা বামন’। তবে এই মুহূর্তে অলিম্পিক উপলক্ষে দক্ষিন কোরিয়াতে রয়েছেন কিম জং উন। সেখানেই দক্ষিন কোরিয়ার রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয় তাঁর। এরপরই দুই দেশের সম্পর্কে মধুরতা আনতে অনুঘটকের কাজ করে দক্ষিন কোরিয়া। এখন দেখার শত্রু থেকে বন্ধুর সম্পর্ক তৈরি হবে? নাকি শত্রুতাই চিরস্থায়ী হবে কিম ট্রাম্পের মধ্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here