kolkata bengali news

ডেস্ক: দীর্ঘদিন রাজ্যের হোমে কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরল দুই বাংলাদেশি নাবালক। মুখে চওড়া হাসি, আনন্দ বাঁধ মানছে তাদের। যেন খাঁচা থেকে ছাড়া পাওয়া পাখি। ফেরার আগে শেষবারের মত জড়িয়ে ধরল হোমের ফুটবল স্যার বনি ও তাঁর সহকারী মণিকে। বনি স্যার তাদের পায়ে যখন ফুটবল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই ফুটবলের সঙ্গে দুটো অদৃশ্য ডানাও জুড়ে দিয়েছিলেন যে।

ভারতীয় মহিলা ফুটবলের দুর্ধর্ষ খেলোয়াড় বন্দনা পাল থেকে তাঁর ‘বনি’ হয়ে ওঠার অসম্ভব কাহিনি অনেকেরই জানা। একসময় ফুটবল ছিল যাঁর ধ্যান-জ্ঞান, আজ সেই বনি কিশলয় হোমের শিশুদের ফুটবল কোচ, মেন্টর। বনি এই হোমে আটক কচিকাঁচাদের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পান। পাশাপাশি, ভিনদেশের, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ভাবে এদেশে এসে ধরা পড়ে যারা পুলিশ-আদালত ঘুরে সরকারি হোমে ঠাঁই পায়, তাদেরও ফুটবলের মাধ্যমে মানসিক উন্নয়ন ঘটানোর কাজ করে চলেছেন। পাশে যোগ্য সহকারী হিসাবে পেয়েছেন চাইল্ড ওয়েলফেয়ার অফিসার মণিশংকর দেকে। আর মাথার ওপর আছেন সুপারিনটেডেন্ট মলয় চট্টোপাধ্যায়।

বুধবার বিএসএফ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের উপস্থিতিতে দুই নাবালককে কিশলয় হোমের বনি-মণির জুটি তাদের দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিশলয় হোমের সুপারিনটেডেন্ট মলয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, বর্ডার পার করে এদেশে আসার পর একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বার করার চেষ্টা করা হয়। তার পর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ-প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ট্রাফিকিংয়ের মাধ্যমে তাদের আবার নিজের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেভাবেই তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দুই নাবালককে সুস্থ-স্বাভাবিক ভাবে নিজদেশে পাঠাতে পেরে মহাখুশি বনি পাল। তিনি বলেন, এই ছেলেরা যখন আসে তারা মানসিক ভাবে খুব অস্থির ছিল। কিন্তু বিভিন্ন হাতের কাজ, ফুটবল ও ট্রেনিংয়ে ওদের ব্যস্ত রাখা হলে ধীরে ধীরে নিজেদের মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠে। এরা দেশে ফিরে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক, এটাই কামনা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here