গড়িয়াতে আক্রান্ত পুলিশ, বেধড়ক মার খেলেন দুই সিভিক ভলান্টিয়ার

0
33
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারুইপুর: বাড়িতে নোটিশ ধরাতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে বেধড়ক মার খেলেন দুই সিভিক ভলান্টিয়ার। দুজনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মন্টু গাজী নামে এক সিভিকের কলার বোন ভেঙেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুজনের চিকিৎসা চলছে বাইপাশ লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা লাগোয়া গড়িয়া থানার নবগ্রামে। রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ ওই এলাকায় টহল দেয়। শনিবারও গোটা এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের মারধরের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত ১৭ই আগষ্ট। সেদিন নবগ্রামের মদ ব্যবসায়ী কাজল দেকে গ্রেপ্তার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পরদিন অর্থাৎ রবিবার তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। কাজলের ঠাঁই হয় বারুইপুর সংশোধনাগারে। সোমবার কাজল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কাজলের। পরিবারের লোকেরা হাসপাতালে গিয়ে দেখেন মৃতের গায়ে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন, শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় ব্যান্ডেজ করা আছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল নটা থেকেই গড়িয়া-নবগ্রামের রাস্তায় বসে অবরোধ, বিক্ষোভ শুরু করেন মৃতের আত্মীয়রা। মৃতের আত্মীয় পরিজনদের বক্তব্য পুলিশি লক আপে শারীরিক নির্যাতনের জন্য কাজলের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি মারা যান। যদিও মারা যাওয়ার তিন দিন পরও পরিবারের সম্মতি না থাকায় পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে পারেনি।

এইজন্য শুক্রবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ নরেন্দ্রপুর থানার একজন অফিসার, একজন কনস্টেবেল ও দুজন সিভিক ভলান্টিয়ার নবগ্রামে যান। দুই পুলিশ কর্মী মৃতের বাড়িতে গেলেও সিভিক ভলান্টিয়ার নাসির গাজী ও মন্টু গাজি রাস্তায় গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। অভিযোগ সেই সময় তিন অপরিচিত যুবক একটি বাইকে করে এসে দুই সিভিককে বেধড়ক মারধর করেন এবং টাটা সুমো গাড়ির কাঁচ ভেঙে গুড়িয়ে দেন। খবর পেয়ে নরেন্দ্রপুর থানার বিশাল বাহিনী গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ৪ নং ওয়ার্ডের তৃনমূল কাউন্সিলর বিভাস মুখোপাধ্যায় ‘পুলিশের মদতেই মদের ব্যবসা হয় আবার পুলিশ টাকা না পেলে ধড়পাকড় করে। তাই সাধারণ মানুষ পুলিশের ওপর আক্রমন করে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here