ডেস্ক: অধীর গড় নামে খ্যাত মুর্শিদাবাদ কয়েক মাস আগেও ছিল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি৷ ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ও তার পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে বিরাট সংখ্যক আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও যে দুটি জায়গায় ঘাসফুল ফোটেনি, তার মধ্যে একটি হল অধীর চৌধুরির মুর্শিদাবাদ৷ অপরটি গনি খান চৌধুরির মালদা৷ এবার মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের হাতছাড়া হতে চলেছে ফরাক্কার বিধায়ক মইনুল হক৷ কংগ্রেসের এই বিধায়ক জানিয়েছেন, তিনি খুব শীঘ্রই যোগ দেবেন ঘাসফুল শিবিরে৷ তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা অনেকটাই পাকা হয়ে গিয়েছে৷ শুধু ফারাক্কার কংগ্রেস বিধায়ক নন, তালিকায় রয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা নওদার বিধায়ক আবু তাহের ও ৷

ফারাক্কার কংগ্রেস বিধায়ক মইনুল হক তাঁর দল ছাড়া প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নই তাঁকে কংগ্রেস ছেড়ে ঘাসফুলে শিবিবে যোগ দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে৷ কংগ্রেসে থেকে তিনি যে কোনও কাজই করতে পারছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মইনুল সাহেব৷ তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে সামিল হয়ে এলাকাবাসীর জন্য কাজ করতে চান৷

পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই মুর্শিদাবাদের তিন কংগ্রেস বিধায়ক দল ছাড়তে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী তথা মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী জেলা পরিষদ কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর অধীর চৌধুরিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানিয়েছিলেন, এই জেলায় কংগ্রেসকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন৷ অধীর চৌধুরির পাশে কাকপক্ষীও থাকবে না বলে দাবি করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ আর মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস বলেই কিছু থাকবে না জানিয়েছিলেন৷ এই মুহূর্তে জেলার যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে শুভেন্দু অধিকারীর কথাই যে বাস্তবায়িত হতে চলেছে তা নিদের আলোর মত স্পষ্ট৷

উল্লেখ্য, ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলার বিধায়ক, পঞ্চায়েত সদস্য, কাউন্সিলররা একে একে দল ছেড়েছেন। এখনও তাদের রক্তক্ষয় অব্যাহত৷ নিজের গড়ে দলের দুই বিধায়ক ও জেলা সভাপতির দলত্যাগ প্রসঙ্গে বিশেষ মন্তব্য করতে চাননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি৷ তবে এক্ষেত্রে তাঁর যে আক কিছুই করার নেই, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ অর্থাৎ, দলের ভাঙন রোখা অধীরের পক্ষে কার্যত অসম্ভব৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here