নিজস্ব প্রতিবেদক, সিউড়ি: তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত বীরভূমের সাঁইথিয়া গ্রাম। রাতভর চলল বোমাবাজি। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন এক তৃণমূল কর্মী। আরও একজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। সোমবার বীরভূমের সাঁইথিয়ার বহড়াপুর গ্রামের বিকেল থেকেই একটা চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়তে থাকে। গ্রামবাসীদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বোমাবাজিও করা হয়। প্রায় সারা রাত ধরেই গ্রামে বিভিন্ন অঞ্চলে বোমাবাজি চলে। কারও বাড়ির দরজায়, কারও বাড়ির দেওয়ালে একের পর এক বোমা মারা হয়, যার চিহ্ন রয়েছে এলাকার জুড়ে।

গ্রামবাসীদের একাংশের মতে, যারা এই বোমাবাজির ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সকলেই তৃণমূলের কর্মী সমর্থক। অর্থাত তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যেই লড়াই চলে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। অন্যদিকে সাঁইথিয়া তৃণমূল ব্লক সভাপতি সাবের আলি দাবি করেছেন, ‘এই লড়াই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াই নয়। গ্রামের ভিতরেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই যাদের এক গোষ্ঠী বিজেপি এবং অন্য গোষ্ঠী তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত।’ তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ”বিজেপির গোষ্ঠীরা আক্রমণ করেছে ফলে এই লড়াই বেঁধেছে।’

যদিও গ্রামবাসীদের দাবী করেছেন, ‘তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই বিবাদ বহু পুরোনো। আর তাই চরম আকার ধারণ করে সোমবার রাতে। এই লড়াই তৃণমূল ব্লক সভাপতি সাবের আলী ও শেখ সুকুরের মধ্যে। সাঁইথিয়া তৃণমূল ব্লক সভাপতি সাবের আলির বাড়িতেও হামলা হয়েছে, বোমাবাজিও চালানো হয়েছে।”

সাঁইথিয়া তৃণমূল ব্লক সভাপতি সাবির আলি গ্রামবাসীদের দাবী অস্বীকার করে পালটা দাবী করে বলেন, ‘বিজেপি এই হামলা চালিয়েছে’। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এই দাবী সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বিজেপি কোথাও কোনওরকম আক্রমণ চালায় নি।’

দুই গোষ্ঠীর লড়াই-এর ঘটনা পুলিশ জানার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁইথিয়া থানার পুলিশ। সকাল থেকে দফায় দফায় অভিযান শুরু করে সাঁইথিয়া থানার পুলিশের বিশাল বাহিনী। গোটা গ্রাম জুড়ে পুলিশের টহলদারি চলছে। ঘটনার ফলে এলাকায় রয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here