নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাল: এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকার দুটি গ্রাম। হল মারধর, বাড়ি ভাঙচুর। এলাকার শান্তি বজায় রাখতে করা হল তৃণমূলের পক্ষ থেকে শান্তি মিছিল। ঘটনাটি ঘটে চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের ভগবন্তপুর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। জানা গিয়েছে ভগবন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর এলাকায় অঞ্চল সভাপতি রাকেশ সরকার ও শেখ হাসান আলি গোষ্ঠীর মধ্যে কার হাতে থাকবে ক্ষমতা তাই নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। শুক্রবার রাত্রি ৮টা নাগাদ রাকেশ সরকারের গোষ্ঠী হাসান আলীর লোকের উপর চড়াও হয় এবং মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ। আর এতেই হাসান আলীর লোকজন রাকেশ সরকার গোষ্ঠীর ওপর পাল্টা চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই চন্দ্রকোনা টাউন থানার ওসি সুদীপ ঘোষালের নেতৃত্বে এলাকায় য়ায় বিশাল পুলিশবাহিনী।

এ বিষয়ে ভগবন্তপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি রাকেশ সরকার বলেন,’রবিবার রাত্রি আটটা নাগাদ এলাকার বিধায়কের ঘনিষ্ঠ কৃষ্ণপুরের এক তৃণমূলের কর্মী হাসান আলীর নেতৃত্বে বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক এলাকা অশান্ত করতে আমাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়। এলাকায় মুড়ি মুড়কির মতো বোমা পাঠানোর পাশাপাশি শূণ্যে গুলিও ছোঁড়া হয়। লাঠি দিয়ে ব্যাপক পরিমাণে মারধর করে এবং জোর করে আমাদের দলীয় কার্যালয়টি দখল করে নেয়। আমার বাড়িতেও চড়াও হয় হাসানের লোকজন। আমাদের প্রায় ৫ জন তৃণমূল কর্মী সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছে।’ যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী শেখ হাসান আলী। তিনি বলেন,’ব্লক সভাপতি অমিতাভ কুশারীর ঘনিষ্ঠ রাকেশ সরকারের নেতৃত্বে, শামসুর রহমান খান, জামশেদ সরকার, আমাদের এলাকার এক নিরীহ ব্যক্তি সেরালী খানকে রাতের অন্ধকারে ব্যাপক পরিমাণে মারধর করে। আর এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এতে কোন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক রঙ নেই। আমরা এলাকাবাসীরা পুরো বিষয়টা জানিয়েছি পুলিশকে।

অপরদিকে ভগবন্তপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলেরই অঞ্চল প্রধানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ শনিবার সকালে ভগবন্তপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল প্রধান ইসমাইল খান এর নেতৃত্বে, শেখ নজুরের লোকজন নাজির আলী বাড়িতে হামলা চালায় এবং বোমাবাজি করে। এ বিষয়ে নাজির আলী বলেন,’গ্রামের প্রধান ইসমাইলের লোকজন শনিবার সকালে আমার বাড়িতে চড়া হয় বাড়িতে ঢিল ছোঁড়ার পাশাপাশি বোমবাজিও করে। আমি দীর্ঘদিনের তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। আর এর জন্যই ইসমাইলের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা করেছে। যদিও বিরোধীরা মনে করছেন এটা বালি নিয়ে লড়াই। এলাকা যার বালি তার। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তরুন কুমার দে বলেন,’ওই এলাকায় বালির প্রচুর খাদান আছে। কার দখলে সেই খাদান থাকবে তা নিয়েই লড়াই। আর এখানে অবাক হওয়ার মত কিছু নেই, এটাই তৃনমূলের কালচার।’ যদি এই বিষয়ে চন্দ্রকোনার বিধায়ক ছায়া দোলই বলেন,’একটা ঘটনা ঘটেছে। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। যদি দলীয় কোন ঘটনা হয় তাহলে দল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। পুলিশকেও বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে।’ শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় শনিবার সকাল এলাকায় করা হয় শান্তি মিছিল। এলাকায় রয়েছে পুলিশি টহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here