kolkata news

Highlights

  • তৃণমূল করার অপরাধে দুই যুবককে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠল
  • তৃণমূল ছাড়ার ফতোয়া না মানায় ওই দুই যুবককে প্রায় একঘণ্টা খুঁটির সঙ্গে দড়ি ও কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয়
  • বিজেপি এই অভিযোগ মানতে চায়নি


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
তৃণমূল করার অপরাধে দুই যুবককে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের হরতান গ্রাম। অভিযোগ, ওই গ্রামের জলেশ্বর মাহাত দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক। বৃহস্পতিবার তাঁর ভাই রঞ্জিত মাহাত ও সন্দীপ মাহাতকে তৃণমূল ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। দাবি, এই গ্রামে থাকতে গেলে বিজেপি করতে হবে। এই ফতোয়া না মানায় ওই দুই যুবককে প্রায় একঘণ্টা খুঁটির সঙ্গে দড়ি ও কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ জলেশ্বর মাহাতর।

খবর পেয়ে জলেশ্বর মাহাত সিভিক পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাঁর দুই ভাইকে উদ্ধার করে কোটশিলা হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে জলেশ্বর মাহাত বলেন, গ্রামে শুধু আমরা টিএমসি করি। অন্য পাড়ায় এক-দু’ঘর থাকলেও আমাদের পাড়ায় আমরা ছাড়া আর কেউ তৃণমূল কংগ্রেস করে না। যতদিন বাঁচব, ততদিন তৃণমূল কংগ্রেস করে যাব। বিষয়টি আমি তৃণমূল নেতাদের জানিয়েছি। তাঁরা আমাকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত বলেন, এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করার কালচারেই বিজেপি চলছে। ওদের রাজ্য সভাপতি সবসময় উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলার জন্যই আজ এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্যই এসব করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। ওখানে আতঙ্ক রয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোথাও কোনও চাপ দিয়ে তৃণমূল থেকে সরানো যাবে না। এই ঘটনায় চারজন বিজেপি কর্মীর নামে কোটশিলা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। হরতান গ্রামটি রিগিদ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। আগে এই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট থাকলেও ২০১৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর এলাকায় শক্তিবৃদ্ধি হয় বিজেপি’র। গ্রাম পঞ্চায়েত দখল নেয় সিপিএম-বিজেপি জোট।

এদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি’র জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, সারা পশ্চিমবাংলায় এটা চলছে। কীভাবে বিজেপিকে ফাঁসানো যায় তাঁর চেষ্টা চলছে। যাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল সে একজন মাতাল। মাতলামি করার জন্য গ্রামের লোক বেঁধে রেখেছিল। এর সঙ্গে বিজেপি’র কোনও সম্পর্কই নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here