kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, রানাঘাট ও কালনা: হামেশাই শোনা যায় বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে মানসিক নির্যাতনে আত্মঘাতী হয়েছে গৃহবধূ। কিন্তু সেই একই ঘটনা যে বিবাহিত পুরুষদের সঙ্গেও ঘটে তা নিয়ে আর কটা কথা বলে সংবাদমাধ্যম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই সব ঘটনা কার্যত ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু বেশ কিছু সর্বভারতীয় সমীক্ষার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে স্ত্রী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেদের মানসিক নির্যাতনে বিবাহিত পুরুষদের আত্মহত্যার ঘটনা এখন গোটা দেশেই ক্রমবর্ধমান। অথচ তা নিয়ে সেভাবে কোন না প্রচার করা হয় না তার বিরুদ্ধে সরকারি বা বেসরকারি স্তরে কোন প্রচার চালানো হয়। বুধবার রাজ্যের দুই জেলায় দুই বিবাহিত পুরুষের আত্মহত্যার ঘটনার পিছনে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের মানসিক নির্যাতন কারন হিসাবে উঠে আসায় এদিন সংবাদমাধ্যমে কিছুটা সাড়া পড়লেও এর রেশ কতদিন থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেই গিয়েছে।

নদিয়া জেলার রানাঘাট থানার শ্যামাপ্রসাদ পল্লীতে বুধবার সকালে ঘরের ভিতর থেকে শুভাশিস দে(২৬) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনার জেরে ওই যুবককে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে শুভাশিস প্রেম করেই বিয়ে করে জেলারই শান্তিপুর থানার ফুলিয়ার বাসিন্দা নয়নতারা দে কে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নানান বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত। মেয়ের বাপের বাড়ির তরফ থেকে প্রায়ই শুভাশিসের ওপর মানসিক অত্যাচার চালানো হত। শুধু মানসিক অত্যাচারই নয়, মাঝে মধ্যেই শুভাশিসকে মারধরও করত তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মঙ্গলবার শুভাশিসকে তার শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। আর এর পরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শুভাশিস। এরপরে বুধবার সকালে শুভাশিসের ঘরের মধ্যে থেকেই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুভাশিসের বাবা-মায়ের অভিযোগ, নয়নতারা ও তার বাপের বাড়ির লোকেরা শুভাশিসকে মানসিক অত্যাচার করার জন্যই সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রানাঘাট থানার পুলিশ।

অন্যদিকে অপর একটি ঘটনায় স্ত্রীর উচ্চ আকাঙ্ক্ষা মেটাতে না পেরে অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। মৃত যুবকের নাম পিন্টু হালদার। বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা থানার বাদলা পঞ্চায়েতের কাঁচরাগর এলাকায়। বুধবার সকালে মৃত স্বামীকে দেখতে এলে স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজনের উপর চড়াও হয় মৃতের আত্মীয়রা। পরে মৃতের স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজনকে পুলিশ উদ্ধার করে কালনা হাসপাতালে ভর্তি করে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, খেতমজুর পরিবারের ছেলে পিন্টু আর্থিক দিক থেকে কমজোর থাকার কারণে, নানান রকম কথা শোনাত স্ত্রী সুদীপ্তা হালদার। বিয়ের মাস পাঁচেকের পর বেশিরভাগ সময়টাই কাটিয়েছে সুদীপ্তা বাপের বাড়িতে কাটায়। কিছুদিন আগে সে ফিরে এলেও মঙ্গলবার পিন্টুর সঙ্গে ঝগড়া করে ফের সে বাপের বাড়ি চলে যায়। সেখানে গিয়েও সুদীপ্তা ফোন করে পিন্টুকে নানান রকম কথা শোনায়। এরপরই পিন্টু আত্মঘাতী হয়। আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কালনা হাসপাতাল চত্বরে সুদীপ্তা ও তার পরিবারের শাস্তির দাবি নিয়ে এদিন বিক্ষোভ দেখায় পিন্টুর পরিজনরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here