মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনে লড়েননি, অথচ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কুর্সি বাঁচিয়ে রাখার জন্য একটি শর্ত পূরণ করতে হত তাঁকে। তা হল- চেয়ার বসার ৬ মাসের মধ্যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে জয়লাভ করে আসা। কিন্তু করোনা কবলে বর্তমানে জেরবার দশা মহারাষ্ট্রের। এই অবস্থায় মহারাষ্ট্রে নির্বাচন করানোর কথা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। ফলে উদ্ধবের মুখ্যমন্ত্রীর আসনের ভবিষ্যৎ এখন সুতোর ডগায় ঝুলছে। আর সেই আসন নাকি টলানোর পরিকল্পনাও চলছে। এই অভিযোগ তুলেই এদিন সোজা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন শিবসেনা সুপ্রিমো।

বস্তুত উদ্ধবের ভবিষ্যৎ এখন রাজ্যপালের হাতে। এই অবস্থায় তিনি ফোন করে প্রধানমন্ত্রীকে নালিশ করেছেন। বলেছেন, ‘করোনা সংক্রমণের এই সুযোগে রাজ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।’ সূত্রের খবর, ঠিক যেই সময় কোভিড ১৯-র বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সরকার লড়ছে সেই সময় রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনিশ্চিয়তা তুঙ্গে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী যাতে নিজের গরজে বিষয়টি দেখেন সেই আবেদন জানিয়েছেন উদ্ধব। এই অবস্থায় একমাত্র রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি যদি মহারাষ্ট্র বিধানসভার সদস্য হিসেবে উদ্ধবকে মনোনীত করেন তবে তাঁর আসন বেঁচে যাবে। নতুবা আসন খোয়াতে হবে। এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে বিজেপি সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ শিবসেনার।

রাজ্যপাল যদিও মনোনয়ন দেবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট করেননি। সোমবার রাজ্যপালকে চিঠি পাঠানোর পর মঙ্গলবার সেনা-এনসিপি-কংগ্রেস মহাআগাড়ি জোট দেখাও করে রাজ্যপালের সঙ্গে। কিন্তু এখনও কোনও সংকেত পাওয়া যায়নি রাজ্যপাল মনোনীত করবেন কিনা উদ্ধবকে। গত বছর ২৮ নভেম্বর শপথ নেওয়া উদ্ধবের ছয় মাসের মেয়াদ আগামী ২৮ মে শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে তিনি যদি কোনও বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হন, তবে সাংবিধানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে থাকার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন। উপনির্বাচনের প্রস্তুতি মাসখানেক আগেই নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনার জন্য তা ভেস্তে যায়। এবার রাজ্যপাল কী সিদ্ধান্ত নেন সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here