ডেস্ক: উল্টোডাঙার গৃহবধু অর্চনা পালংদার খুনের তদন্তে নেমে নয়া তথ্য পেল কলকাতা পুলিশ। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই যে অর্চনা খুন হয়েছে তা আগেই বুঝেছিল তদন্তকারীরা। কিন্তু কে খুন করেছে তা নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। এবার প্রকাশ্যে এল সেই তথ্য, ধর্মতলার হোটেলের ঘরেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় উল্টোডাঙার গৃহবধু অর্চনাকে। এরপর আত্মহত্যা করে তার প্রেমিক বলরাম। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার পর ঝঞ্ঝাট এড়াতে মৃতদেহ গুলি লোপাট করে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বকর্মা পুজার দিন দুপুরে মোবাইল সারানোর নাম করে বাড়ি থেকে বেরোয় অর্চনা। তারপর আর ফেরেনি। এই ঘটনায় থানায় মিসিং ডায়েরি করে অর্চনার পরিবার। এর ঠিক তিনদিন পর লক গেটের কাছ থেকে উদ্ধার হয় অর্চনার বস্তাবন্দী দেহ। মর্গে গিয়ে অর্চনার দেহ শনাক্ত করে তাঁর স্বামী পিন্টু। ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিকবার পিন্টুকে জেরা করে পুলিশ। অর্চনার মোবাইল ও পিন্টুর কথায় পুলিশ জানতে পারে একাধিক যুবকের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অর্চনার।

অর্চনার কললিস্ট ঘেঁটে খুনের সুত্র আসে পুলিশের হাতে আর সেখান থেকে হোটেলের এক কর্মচারীর খোঁজ পায় পুলিশ। আশিস যাদব নামে ঝাড়খণ্ডের ওই যুবককে গ্রেফতারের পরই পুলিশের হাতে আসে আসল তথ্য। পুলিশি জেরায় আশিস জানায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে অর্চনা ও তার প্রেমিক বলরামের মধ্যে বচসা বাধে। আর সেই বচসাই মারাত্মক পর্যায়ে যায়। হোটেলের মধ্যেই অর্চনাকে খুন করে তার প্রেমিক বলরাম। এরপর আত্মঘাতী হয় বলরাম নিজেও। হোটেল কর্তৃপক্ষ নিজেদের দূর্নামের ভয়ে বস্তাবন্দী করে ফেলে দিয়ে আসে অর্চনার দেহ। পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষের বয়ানের উপর ভিত্তি করে বাইপাসের ধারে নোনাডাঙ্গা খাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বস্তাবন্দি কম্বল দিয়ে মোড়ানো একটি দেহ। যা বলরামের বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। এই ঘটনার ওই হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here