নিজস্ব প্রতিবেদক, বিষ্ণুপুর ও ঝালদা: রবিবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে জমজমাট উৎসবের ছবি ধরা পড়ল উল্টোরথকে ঘিরে। মল্লরাজাদের রাজধানী বিষ্ণুপুরের মাধবগঞ্জের ১১পাড়ার রথ ও কৃষগঞ্জের ৮ পাড়ার রথকে ঘিরে গোটা শহর দিনভর ফুটল লড়াইয়ের টেনশনে। কারণ বিষ্ণুপুরের রথযাত্রার মজাই হচ্ছে উল্টোরথে শহরেরই দুই প্রান্তের দুটি রথ নিয়ে আমজনতার লড়াই। চমক আর জমকে কে কাকে হারাতে পারে তা নিয়েই চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিকেল থেকেই শহরে ভিড়ের চোটে শহরের প্রাণকেন্দ্রে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সন্ধ্যে নামতেই শুরু হয়ে যায় দুটি রথকে ঘিরে দুই পাড়ার মধ্যে প্রতীকী লড়াই। মাধবগঞ্জের কমিটি তাদের প্রতীক এঁড়ে গরুকে নিয়ে লড়াই এ সামিল হয় কৃষগঞ্জের প্রতীক গড়ুরের সঙ্গে। একসময় দুই পাড়ার মধ্যে ছিল তীব্র ঈর্ষার লড়াই। এখন সেই সব অতীত। দুই কমিটি বর্তমানে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা দিচ্ছে। এখন নেই ঈর্ষা, তবে যে লড়াই জারি রয়েছে তা প্রতীকি। লড়াই রয়েছে আলোকসজ্জার, বাদ্যযন্ত্রের ও শোভাযাত্রার। একে অপরকে পাল্লা দিতে রকমারি আলোর কেরামতি ও বাদ্য যন্ত্রের বাহারি। সব মিলিয়ে উৎসব মুখর বিষ্ণুপুর।

অন্যদিকে উল্টো রথে উল্টো চিত্র ধরা পড়ল পুরুলিয়ার ঝালদায়। সব জায়গাতেই দেখা যায় ভক্তরাই রথ টানে। কিন্তু ঝালদার উল্টোরথ টানলো ট্রাক্টর। আর এই নিয়ে ক্ষুব্দ এলাকাবাসি। তাহলে কি যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধর্মেও আধুনিকতার ছাপ পড়ছে। ঝালদার বাসিন্দা মধুসুধন সাউ বলেন, এরকম কোনদিনও দেখিনি যে রথ টানছে ট্রাকর। এটা ঠিক নয়। এই বিষয়টি যারা কমিটিতে আছে তাদের দেখা দরকার। বহু প্রাচীন ঝালদার এই রথযাত্রা এবছর ১০৯ বছরে পড়লো। শুরুর সময় থেকেই রথযাত্রা থেকে উল্টোরথের দড়ি টেনেছে মানুষ। দূরদুরান্ত থেকে মানুষ এসে উল্টো রথের দিনও মানুষ রথের দড়ি ছোঁয়ার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। এবারেই প্রথম উল্টো রথের দিন উল্টো চিত্র হওয়ায় বহু মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here