kolkata bengali news

Highlights

  • শহিদের মা চান, যুদ্ধ নয়, শান্তি ফিরুক
  • উলুবেড়িয়া জুড়ে শহিদ হওয়ার বর্ষপূর্তিতে একাধিক কর্মসূচি
  • কষ্ট যতই থাক, গর্বের সঙ্গে পালন করা হবে এই দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, উলুবেড়িয়া: এক বছর অতিক্রান্ত হবে পুলওয়ামা ঘটনার। গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সন্ধ্যায় পাকিস্তানের জঙ্গি হামলায় ৪৪ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। শহিদদের মধ্যে ছিলেন উলুবেড়িয়া বাউড়িয়া এলাকার চককাশীর বাসিন্দা বাবলু সাঁতরা।

বাবলুর স্মরণে ইতিমধ্যে এলাকায় তার মূর্তি বসানো হয়েছে এক মন্দির কমিটি ও শহীদ পরিবারের উদ্যোগে। এক সংস্থার উদ্যোগে মেছেদা থেকে জওয়ানের বাড়ি পর্যন্ত বাইক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এছাড়া নানা সময়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচালনায় ও উলুবেড়িয়া পুরসভার সহায়তায় এক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে এই দিন।

পরিবারে এক শূন্যতা সবসময় রয়ে গেছে। বাবলুর স্মৃতি আজও অমলিন। বাবলুর মা বনমালা দেবী বললেন, প্রতিবার বাড়িতে এসে কোনো না কোনও কাজ করতেন শহিদ জওয়ান। নিজে হাতে তৈরি করেছিলেন, বাড়ির উঠোনের ঢালাই। বলেন, বাড়ির ছোট খাটো সব কাজেই রয়েছে বাবলুর হাতের ছোঁয়া। যেদিকেই দেখা হোক সেদিকেই যেন ছেলেকে আজও দেখতে পান মা।
১৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলেও তিথি অনুযায়ী তাঁর মৃত্যু বার্ষিকী ৩রা ফেব্রুয়ারি। সেই উপলক্ষে ওইদিনই পরিবার বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে জানান মা বনমালা দেবী। পাশাপাশি বলেন, তিনি সবসময় শান্তি চান। ‘আমরা সাধারণ মানুষ। আমরা চাই সবসময় শান্তি বজায় থাকুক।’ আরও বলেন, ‘আমি চাই না আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি হোক।’

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ জম্মু থেকে কাশ্মীর যাওয়ার পথে পুলওয়ামার অবন্তিপুরাতে জঙ্গি হামলায় ৪৪ জন জওয়ান শহীদ হন। শহীদ বাবলু সাঁতরা সিআরপিএফের ৩৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান ছিলেন। ২০০০ সালে বাবলু সিআরপিএফে যোগ দেন। তখন তিনি ছিলেন উলুবেড়িয়া কলেজে পাঠরত। তাঁর শহিদ হওয়ার পর অনেক মন্ত্রী থেকে রাজনোইতিক-প্রশাসনিক আধিকারিক এসেছেন বাড়িতে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার তাঁর পাশে থেকেছেন বলেও বনমালা দেবী বলেন।

বৃহস্পতিবার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল বাবলুর মা একাই বাড়িতে ছিলেন। বাবলুর স্ত্রী মিতা সাঁতরা মায়ের বাড়ি হুগলীর উত্তরপাড়ায় থাকেন। মাঝেমধ্যে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। গত ৩ তারিখে বাবলুর বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়ায় তিনি এসেছিলেন। স্ত্রী কাঁকুড়গাছিতে কাজ করেন। মেয়েকেও উত্তরপাড়ার এক স্কুলে ভর্তি করেছেন। পরিবারের লোকেরা জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি অনেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিতাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি যাবেন না বলে বাড়িতে জানিয়েছেন। বলেছেন, সারাদিন বাড়িতেই থাকবেন। মিতা সাঁতরা জানান, ‘রাজ্য সরকার ও সিআরপিএফ আমাদের পাশে রয়েছেন। আগামী দিনেও তারা পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। বাবলু না থাকায় পরিবারে বিরাট শূন্যতা তৈরি।

শহিদের ভাই কল্যাণ সাঁতরা বলেন, পাকিস্তানি জঙ্গিদের শাস্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক সরকার। স্ত্রী দাবি করেন, সব দিক দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হোক সৈনিকদের। মায়ের ইচ্ছে, সরকার ভালোর জন্য যা খুশি সিদ্ধান্ত নিক কিন্তু শান্তি বজায় থাকুক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here