international bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নাগরিত্ব দিতে নয়া আইন এনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিএএ আইন নিয়ে উত্তাল দেশের বিভিন্ন জায়গা। ভারতের সংখ্যালঘুরা বিপন্ন হবে এই আশঙ্কা করে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনা করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। ভারতে থাকা মুসলিমদের বৈষম্যের মুখে পড়তে হচ্ছে এবং পরবর্তী সময় হবে বলে চিন্তা প্রকাশও করা হয়েছে। দেশের বিরোধীরা তো কেন্দ্রকে প্রথম থেকে আক্রমণ করে যাচ্ছে এই আইন নিয়ে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সাফ বক্তব্য, এই তিন দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা অত্যাচারিত, তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই নিয়ে সরব হয়েছে পাকিস্তানও। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দাবি, হিন্দুরাষ্ট্র করার পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। কিন্তু পাকিস্তানের এই বিরোধিতা বেশিদিন স্থায়ী হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে জোর ধমক খেল তারা। সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিষয় নিয়ে ইমরান খান সরকার তীব্র ভর্ৎসনা করল রাষ্ট্রপুঞ্জ।

এর আগে পাকিস্তানে যে হিন্দুরা অত্যাচারিত হচ্ছে তা নিয়ে রিপোর্ট পেশ হয়েছিল। গোটা বিষয় নিয়ে মারাত্মক আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বিশ্বমহল থেকেও। এবার ফের এই অভিযোগ উঠছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘কমিশন অন দ্য স্টেটাস অফ দ্য উইমেন’ সংস্থার পক্ষ থেকে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, দেশের বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক কাজ করছে। বিশেষত, সংখ্যালঘু হিন্দু এবং খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ, বিশেষত মহিলাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে, এবং তা বাড়ছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এইসব সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যখন তখন ধর্ষণ, খুন ইত্যাদি ঘটনাও ঘটছে যার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার। পাকিস্তানের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়।

এই রিপোর্টে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, নারী নির্যাতনে ক্রমশ ওপরের দিকে উঠে আসছে পাকিস্তান। অ-মুসলিম নারীদের ওপর অত্যাচার, মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে তাদের বিয়ে দেওয়া, ধর্ষণ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা বলা চলে। তবে শুধু যে হিন্দুরা তা নয় অত্যাচারের শিকার হচ্ছে ভারত থেকে পাকিস্তানে যাওয়া মুসলমানরাও। টুকরো টুকরো এমন বহু ঘটনা নিয়ে চিন্তিত রাষ্ট্রপুঞ্জ তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের। আর পাকিস্তানকে রাষ্ট্রপুঞ্জের এই তোপ যে ভারতের পক্ষে অনেকটাই কাজে লাগবে তা বলাই বাহুল্য। যদিও ভারতের এই সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত একমত হতে পারেনি কেউ। এ দেশেও বিরোধিতা অব্যাহত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here