নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রথমত, লবিবাজির শিকার! তার ওপর ছেলের বয়সী শুভেন্দুর উত্থান! তার জেরেই কি বিজেপি ছাড়লেন মুকুল রায়! আজ, শুক্রবারের বারবেলায় এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করল রাজনৈতিক মহলে। এ ব্যাপারে এখনও কিছু জানাননি মুকুল স্বয়ং। তবে গেরুয়া নেতৃত্বের শুভেন্দুকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়াটা যে মুকুল ভালোভাবে নেননি, আবডালে তা জানিয়েছেন তাঁর অনুগামীরা।

তিন বছর ন মাস আগে মহা পঞ্চমীর দিন সবুজ ছেড়ে গেরুয়া খাতায় নাম লেখান মুকুল রায়। তার পরেই নিজস্ব ক্যারিশ্মায় একে একে তৃণমূল ভাঙিয়ে ঘর ভর্তি করেন বিজেপির। যার সুফল ঘরে তোলে গেরুয়া শিবির। লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুই থেকে এক লপ্তে ১৮টি আসন আসে গেরুয়া ঝুলিতে। তার পরেই দলে গুরুত্ব বাড়তে থাকে মুকুলের। রাজ্য বিজেপির একাংশ অবশ্য একে ভালোভাবে নেননি। যার জেরে শুরু হয় মুকুলকে কোণঠাসা করার পালা।

এদিকে, গত বছর ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয় সংগঠন গড়ার কাজে। উত্তর থেকে দক্ষিণ গোটা রাজ্য চষে বেড়ান এই তরুণ তুর্কি। নন্দীগ্রামে খোদ তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। টাফ ফাইট শেষে জয়মাল্য গলায় ওঠে শুভেন্দুরই। শুধু তাই নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের মধ্যে সাতটি আসনও শুভেন্দু তুলে দেন গেরুয়া নেতৃত্বের হাতে। তার পর থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃ্ত্বের নজরে পড়ে যান এই তরুণ তুর্কি নেতা। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদে বসানো হয় তাঁকে।

সম্প্রতি দিল্লিতে জরুরি তলব করা হয় শুভেন্দুকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি খোদ প্রধানমন্ত্রীও আলাদা করে বৈঠক করেন শুভেন্দুর সঙ্গে। মুকুলের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এর পর আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সিদ্ধান্ত নেন দল বদলের। শুক্রবারের বারবেলায় যা পায় পরিণতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here